শক্তি বাড়িয়ে অর্ণব এখন পরিণত হয়েছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে। অর্ণবের শক্তিবৃদ্ধির বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে রেল পরিষেবায়। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মিলিয়ে দেশের ৫৩টি ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি হাওড়া-জগদলপুর এবং রৌরকেলা-জগদলপুর রুটের চারটি ট্রেনের পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। এই ট্রেনগুলির কয়েকটির পরিষেবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে হাওড়া-জগদলপুর এবং রৌরকেলা-জগদলপুর রুটের যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া-জগদলপুর এক্সপ্রেস ২৭ অক্টোবর থেকেই বাতিল থাকছে। অন্য দিকে, রৌরকেলা-জগদলপুর রুটের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হবে অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কোন ট্রেন কবে বাতিল, রইল বিস্তারিত তালিকা।
কোন ট্রেন কবে বাতিল?
১. ১৮০০৫ হাওড়া-জগদ্দলপুর এক্সপ্রেস: ২৭ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
২. ১৮০০৬ জগদ্দলপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস: ২৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
৩. ১৮১০৭ রৌরকেলা-জগদ্দলপুর এক্সপ্রেস: ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
৪. ১৮১০৮ জগদ্দলপুর-রৌরকেলা এক্সপ্রেস: ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
শুধু এই চারটি ট্রেনই নয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক রুটেও ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়েছে। বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, মাচিলিপটনম, নারসাপুর, ভীমাভরম, কাকিনাড়া পোর্ট, গুন্টুর এবং বিশাখাপত্তনমের সঙ্গে সংযোগকারী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মিলিয়ে মোট ৫৩টি ট্রেন বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। কিছু ট্রেন দু’দিনই বাতিল, আবার কয়েকটির পরিষেবা বন্ধ থাকবে নির্দিষ্ট একটি দিনে।
কেন বাতিল ট্রেন?
আবহাওয়া দhdতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে সেটি। ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, তেলঙ্গানা-সহ একাধিক রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে রেল চলাচল নিরাপদ রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারও প্রস্তুতি জোরদার করেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য সেনা, নৌসেনা, বায়ুসেনা এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতেও ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিঙে ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশ
রেলের তরফে যাত্রীদের যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত হাওড়া-জগদ্দলপুর ও রৌরকেলা-জগদ্দলপুর রুটে যাঁদের টিকিট কাটা রয়েছে, তাঁদের ট্রেন বাতিলের তারিখ চেক করে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রেলের সরকারি ওয়েবসাইট অথবা ন্যাশনাল ট্রেন এনকোয়ারি সিস্টেম (NTES) চেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী রেলের পরবর্তী নির্দেশিকাতেও নজর রাখা জরুরি।
