The Sangbad · সাধারণ
নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস
২৭/১০/২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ বা টিউবওয়েল খনন করতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জালিয়াাপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় এই ঘটনা ঘটে। মাটির নিচ থেকে সমানে গ্যাস ও আগুন বের হতে থাকায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ছোট ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। খননকাজ চলাকালে হঠাৎ করেই মাটির তলদেশ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা বালু ও পানি ছিটিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে চেষ্টা ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।সংবাদ পেয়ে প্রথমে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় কক্সবাজার শহর থেকেও ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট টানা কাজ করে যাচ্ছে।উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির নিচে জমে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে দুপুরের দিকেও আগুনের তাণ্ডব কমেনি বলে জানান জালিয়াাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামশুল আলম। তিনি জানান, পানি ও বালু ছিটিয়েও আগুনের তীব্রতা কমানো যাচ্ছে না, বরং তা ক্রমশ বাড়ছে। এতে আশপাশের আবাসিক এলাকা ও পর্যটন রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঝুঁকি এড়াতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের দল টানা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাপরিক বা পরিবেশগত কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗