বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা কখনোই সহজ নয়, যার নেপথ্যে থাকে অন্তহীন সংগ্রাম আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রম। নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী রবীনা ট্যান্ডন সোমবার ২৬ অক্টোবর তাঁর ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করেছেন। অথচ জীবনের শুরুতে স্টুডিওর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে সাধারণ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করা এই তারকার পথচলা আজকের প্রজন্মের কাছে এক রূপকথার মতো। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'পাত্থর কে ফুল' সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় পা রেখে যিনি রাতারাতি তারকা বনে যান, তাঁর এই সুদীর্ঘ অভিনয় জীবনের পেছনের গল্পটি দারুণ চমকপ্রদ।
দশম শ্রেণী পাস করার পরপরই বিখ্যাত বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রহ্লাদ কক্করের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন রবীনা ট্যান্ডন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেছিলেন সেই দিনগুলোর কথা, যেখানে তাঁকে স্টুডিওর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে নানা কায়িক শ্রমের কাজও করতে হয়েছিল। শুরুতে ক্যামেরার সামনে আসার কোনো বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। তবে নিয়তির টানে প্রহ্লাদ কক্করের শুটিংয়ে অনুপস্থিত মডেলদের বিকল্প হিসেবে মেকআপ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হতো তাঁকে। একসময় তিনি বুঝতে পারেন, এই কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া উচিত, যা তাঁর পকেট মানির চাহিদা মেটাত। এভাবেই মডেলিংয়ের দুনিয়ায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে ভাগ্যচক্রে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির মূল স্রোতে চলে আসেন এই অভিনেত্রী।
মডেলিংয়ের দিন থেকেই রবীনার কাছে একের পর এক সিনেমার লোভনীয় প্রস্তাব আসতে শুরু করে, যার মধ্যে ছিল যশ চোপড়ার বিখ্যাত ছবি 'ডর', করিশ্মা কাপুরের ডেবিউ ছবি 'প্রেম কয়েদি' এবং অজয় দেবগনের প্রথম সিনেমা 'ফুল অউর কাঁটে'। সাঁতারের পোশাক পরা বা কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্যে অস্বস্তির কারণে তিনি সেই সময় এই বড় সুযোগগুলো স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বন্ধু বান্টি ওয়ালিয়ার প্রচেষ্টায় সালমান খানের বিপরীতে 'পাত্থর কে ফুল' সিনেমার মাধ্যমেই সিলভার স্ক্রিনে অভিষিক্ত হন তিনি। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করে সেরা নারী অভিষেক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেন রবীনা।
চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ে 'মোহরা', 'দিলওয়ালে', 'আন্দাজ আপনা আপনা', 'খিলাড়িও কা খিলাড়ি', 'দুলহে রাজা'-র মতো একাধিক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয়ে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে 'শূল', 'দমন', 'আক্স' কিংবা ব্লকবাস্টার 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু' সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর অভিনয় প্রতিভার গভীরতা। আজ ৫৪ বছরে পদার্পণ করা এই আইকনিক অভিনেত্রী কেবল বলিউডের একজন সফল তারকাই নন, বরং তাঁর জীবনের এই না বলা অধ্যায় প্রতিটি উচ্চাভিলাষী শিল্পীর জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।
