রিটার্ন জার্নি এফেক্ট কী?
Published on
:
2 min read
এই তো সে দিনের কথা। ষষ্ঠীর রাতে কালকা মেল ছিল। গন্তব্য শিমলা। কলকাতা থেকে গাড়িতে হাওড়া স্টেশন। তারপরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা ট্রেন জার্নি করে কালকা। সেখান থেকে আবার সাড়ে তিন ঘণ্টা বাসে চেপে শিমলা। একটা লম্বা জার্নি। দু’দিন যেন কাটতেই চাইছিল না। লক্ষ্মীপুজোর দিন ফেরার ট্রেন কালকা থেকেই। একই রুটে, একই ভাবে বাড়ি ফিরলেন। ঘড়িতে একই সময় লাগল। তবু মনে হলো বাড়ি ফেরার এই সফর যেন চোখের নিমেষে শেষ হয়ে গেল। বোঝাই গেল না, ট্রেন-বাস জার্নি এই সফরে শেষ হয়ে গেল।
কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময়ে যেন গন্তব্যে পৌঁছনোর রাস্তা শেষ-ই হয় না। অথচ ফেরার পথে মনে হয়, চোখের পলকেই বাড়ি পৌঁছে গেলেন। সে কলকাতা টু কালনা হোক কিংবা কালকা— ফিরতি পথের সফর যেন যাওয়ার তুলনায় কমই মনে হয়। এই মনে হওয়াকে মনস্তত্ত্বে বলে ‘রিটার্ন জার্নি এফেক্ট’। একই সময় ধরে যাতায়াত করলেও ফেরার পথ তুলনায় কম সময়ের বলে হয়। এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে।
অচেনা পথের প্রতি বেশি মনোযোগ
নতুন কোনও জায়গায় যাওয়ার সময়ে চারপাশের দৃশ্য, রাস্তার মোড় কিংবা দিকনির্দেশের দিকে বেশি নজর থাকে। কতটা রাস্তা বাকি, কখন গন্তব্যে পৌঁছবেন, তা নিয়েও বার বার ভাবতে থাকেন। সময়ের দিকে এই অতিরিক্ত নজর দেওয়ার ফলে পথ দীর্ঘ বলে মনে হয়। অন্যদিকে, ফেরার সময়ে রাস্তাটি পরিচিত থাকায় নতুন করে সব কিছু খেয়াল করার আর প্রয়োজন পড়ে না। ফলে যাত্রা তুলনায় সহজ এবং দ্রুত শেষ হচ্ছে বলে মনে হয়।
সময় নিয়ে প্রত্যাশা
কতটা দীর্ঘ পথ পেরোলে গন্তব্য পৌঁছব— এই প্রত্যাশাই যেন বাড়িয়ে দেয় সময়। বার বার ঘড়ির কাঁটা দেখতে থাকেন। যাওয়ার পথে প্রত্যাশা থাকে, তা মনে হয় পথ যেন দীর্ঘ। ফেরার সময়ে একই সময় লাগলেও গন্তব্যে পৌঁছনোর কোনও প্রত্যাশা থাকে না। তাই দেরি হলেও যাত্রা ছোটই মনে হয়। তবে যদি ফেরার পথে যানজটে পড়তে হয়, তখন বিরক্তির শেষ থাকে না। তখন মনে হয়, কখন বাড়ি পৌঁছব।
পরিচিত পরিবেশে স্বস্তি
অচেনা পথে ঠিক দিক ধরে এগোচ্ছেন কি না, তা নিয়ে চিন্তা থাকে। তবে ঘুরতে গেলে পথ বন্ধু হয়ে যায়। তাই ফেরার সময়ে এই চেনা রাস্তা এক মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে নিজের পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার আনন্দও করে। তাই মনে হয়, ক্ষণিকের যাত্রা ছিল।
FAQ
১. রিটার্ন জার্নি এফেক্ট কী?
একই সময় লাগলেও ফেরার পথকে যাওয়ার পথের তুলনায় কম সময়ের বলে মনে হওয়াকে রিটার্ন জার্নি এফেক্ট বলে।
২. ফেরার পথে সময় কম লাগে বলে মনে হয় কেন?
ফেরার পথে রাস্তা পরিচিত থাকে এবং চারপাশের দিকে মনোযোগ কম দিতে হয়। তাই যাত্রা দ্রুত শেষ হয়েছে বলে মনে হয়।
৩. যাওয়ার পথে রাস্তা দীর্ঘ মনে হয় কেন?
নতুন জায়গায় যাওয়ার উত্তেজনা, গন্তব্যে পৌঁছনোর অপেক্ষা এবং বার বার ঘড়ি দেখার কারণে রাস্তা দীর্ঘ মনে হতে পারে।
৪. রিটার্ন জার্নি এফেক্ট কি যাত্রার সময় সত্যিই কমিয়ে দেয়?
না। এই প্রভাব মূলত সময় সম্পর্কে আমাদের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। বাস্তবে যাত্রার সময় একই থাকতে পারে।
৫. ফেরার পথে যানজটে পড়লে কি রিটার্ন জার্নি এফেক্ট কাজ করে?
যানজট ও অপেক্ষার কারণে বিরক্তি বাড়লে ফেরার পথও দীর্ঘ মনে হতে পারে। পরিস্থিতি ও মানসিক অবস্থার উপর এই অনুভূতি নির্ভর করে।
