ভ্রমণ মানেই এখন শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত নয়; এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে রকমারি খাবারের অভিজ্ঞতা। কোথাও যেতে হলে আমরা প্রথমে ভাবি, সেখানে গিয়ে কী খাব। কিংবা সেই দেশের সেরা খাবারটা কোথায় গেলে পাব। কিন্তু এই ভ্রমণের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যাত্রাপথ; যার অন্যতম মাধ্যম বিমান। ভ্রমণ শুরু হয় বাসা থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর। তাই খাবারের হিসাবটাও সেখান থেকে শুরু হয়। কোন দেশের কোন খাবার সেরা, এটা জানা যেমন ভ্রমণের অংশ, তেমনি কোন বিমানবন্দর কিংবা কোন এয়ারলাইনসের খাবারটা সেরা, সেটা জেনে রাখাও ভালো। এ বছরের ওয়ার্ল্ড কুলিনারি অ্যাওয়ার্ডসের সর্বশেষ ফলাফলে উড়োজাহাজ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর ও লাউঞ্জ—সবখানে যাত্রীদের সেরা স্বাদের খাবার পরিবেশনের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আকাশে কিংবা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে বিমানবন্দরের টার্মিনালে কোথায় মিলছে সেরা খাবার, তার একটি চমৎকার চিত্র উঠে এসেছে সেই তালিকায়।
সেরা কুলিনারি এয়ারলাইন: ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস
এবারের আসরে বড় চমক দেখিয়ে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট কুলিনারি এয়ারলাইন ২০২৬’ খেতাব জিতেছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস। প্রথম কোনো এশীয় বিমান সংস্থা হিসেবে তারা এই বিরল গৌরব অর্জন করে। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও ক্যাথে প্যাসিফিকের মতো বাঘা বাঘা বিমান সংস্থাকে পেছনে ফেলে তারা এই শীর্ষ স্থান দখল করে। ভিয়েতনামের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলীকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে তাদের ইন-ফ্লাইট মেনুগুলো বেশ যত্ন নিয়ে সাজানো হয়। ঋতু ও রুটভেদে মেনুতে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে প্রতিটি ফ্লাইটেই যাত্রীরা ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা পান। ইকোনমি ক্লাসে সকালের নাশতায় থাকে তাদের সিগনেচার ক্রিসপি ক্রোসাঁ আর দুপুরের বা রাতের খাবারে দেওয়া হয় ভাত কিংবা পাস্তার সঙ্গে সুস্বাদু সস, পাউরুটি ও ডেজার্ট। অন্যদিকে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিক বৈচিত্র্য। যেমন দক্ষিণ কোরিয়াগামী ফ্লাইটে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বিবিনবাপ, জিনসেং চিকেন স্যুপ বা জাজাংমিয়ন। ইউরোপীয় রুটে ফ্রেঞ্চ, জার্মান বা ব্রিটিশ খাবার এবং ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার যাত্রীরা ফ্লাইটের আগেই খাবার প্রি-অর্ডার করার সুযোগ পান।

বিমানবন্দর খাবারে সেরা: লন্ডনের হিথরো
আকাশের পাশাপাশি মাটিতেও খাবারের মান বিচারে সেরা হয়েছে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর। দুবাই, কাতার, হংকং কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দরগুলোকে পেছনে ফেলে হিথরো ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট ফর এয়ারপোর্ট ডাইনিং ২০২৬’ খেতাব জিতেছে। হিথরোর চারটি টার্মিনালেই যাত্রীদের জন্য রয়েছে ক্যাফে থেকে শুরু করে বিশ্বমানের প্রিমিয়াম ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা। এর মধ্যে টার্মিনাল ২-এর লে ক্যাফে লুই ভিতোঁয় মিলছে হ্যাজেলনাট গানাশ ও প্রালিনের তৈরি দারুণ সব ডেজার্ট। আর টার্মিনাল ৫-এ বিখ্যাত শেফ গর্ডন রামজির ‘প্লেন ফুড মার্কেট’-এ পিৎজা, সুশি, নুডলস থেকে শুরু করে ব্রিটিশদের প্রিয় ‘ফিশ অ্যান্ড চিপস’ পর্যন্ত সবকিছুই পাওয়া যায়।
সেরা লাউঞ্জ ডাইনিং: টার্কিশ এয়ারলাইনস ও গ্যাটউইক
এয়ারলাইনস লাউঞ্জের ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ‘টার্কিশ এয়ারলাইনস ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ’। বিশ্বজুড়ে এডিনবরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত এই লাউঞ্জগুলোতে বুফে স্টাইলে ঐতিহ্যবাহী তুর্কি ও বিশ্বমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। অন্যদিকে, বিমানবন্দর লাউঞ্জের মধ্যে সেরা ডাইনিংয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে লন্ডনের গ্যাটউইক সাউথ টার্মিনালের ‘ক্লাবরুমস’। এই লাউঞ্জের মেনু পরিবর্তন করা হয় মৌসুম অনুযায়ী। সকালে ব্রেকফাস্টে এগস বেনেডিক্ট ও বেলজিয়ান ওয়াফল এবং রাতের মেনুতে চিকেন সিজার সালাদ, গোচুজাং চিকেন থাই বা মরোক্কান নাট রোস্টের মতো চমৎকার সব খাবার পরিবেশন করা হয়। সব মিলিয়ে বিমানযাত্রা এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়। আকাশ ও ভূমির এই বৈচিত্র্যময় আর সুস্বাদু খাবারগুলো পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে করে তুলছে আরও আনন্দদায়ক।
সূত্র: ইউরোনিউজ, ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডস
