Published on
:
2 min read
চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
কোচবিহার শহর এবং সংলগ্ন এলাকার হাজারেরও বেশি এলপিজি গ্রাহক সমস্যায় পড়েছেন। হঠাৎ করেই তাঁদের এলপিজি গ্যাসের বুকিং বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কারও আবার বুকিং করা থাকলেও সেটি ক্যানসেল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি সিলিন্ডার না পেয়ে বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়েছে অনেকেরই। মূলত বাড়িতে পাইপ লাইন ন্যাচারাল গ্যাসের সংযোগ করিয়ে এই পরিস্থিতিতে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এ নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে প্রায় নিত্যদিনই ঝামেলা চলছে।
চলতি বছর কোচবিহার শহর এবং সংলগ্ন কিছু গ্রামীণ এলাকায় বেশ কিছু বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাসের সংযোগ দিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড। এর ফলে এলপিজির (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) পরিবর্তে পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) পরিষেবা পাচ্ছেন ওই সব পরিবারের লোকজন। বর্তমানে সবমিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার বাড়িতে এই সংযোগ পৌঁছেছে। চলতি বছর আরও দশ হাজার বাড়িতে তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়াম। কিন্তু বাড়িতে যাবতীয় সংযোগ তৈরি করে রাখার পরেও যাঁরা এখনও পাইপের সংযোগ নেননি, মূলত সমস্যায় পড়েছেন তাঁরাই। এর ফলে সিস্টেম অনুযায়ী তাঁদের এলপিজি সংযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এ দিকে বাড়িতেও পাইপ লাইন পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। কোচবিহার শহরের একটি ইন্ডিয়ান এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের ম্যানেজার অনিলচন্দ্র দাস বলেন, 'আমাদের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। প্রায় ৮০০ গ্রাহকের সংযোগ বন্ধ হয়েছে। তাঁরা অনেকেই এসে কারণ জানতে চাইছেন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা তাঁদের অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এখানে ডিস্ট্রিবিউটরের কিছু করার নেই।'
কোচবিহার শহরের বাসিন্দা পার্থ অধিকারী বলছেন, 'শনিবার হঠাৎ করেই বাড়ির এলপিজি সিলিন্ডারের সংযোগের একটি মেসেজ পেয়েছি। সেখানে সংযোগ সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপরে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বাড়িতে পাইপ লাইন বসেছে, তাই ফাইনালি সংযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপরে বিপিসিএল অফিসে গিয়ে সমস্যার কথা জানালে তারা তিন চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে।'
বাড়িতে গ্যাস না থাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্যাস এনে বর্তমানে রান্না করছেন তিনি। ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের কোচবিহারের এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক বলেন, 'যে সমস্ত এলাকায় সম্পূর্ণ পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে অথচ যাঁরা সংযোগ নিচ্ছেন না, সরকারি নির্দেশে তাঁদেরই নোটিস করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশে তাঁদের ৯০ দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও সংযোগ না নিলে পুরোনো সংযোগ বা এলপিজি বন্ধ হয়ে যাবে।' সব মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি গ্রাহককে নোটিস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের দু'-চার দিনের মধ্যেই সংযোগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
