ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এবারের নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা ও দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশটিতে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। দেশজুড়ে নির্বাচন উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নিবার্চন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক ভোট দেওয়ার যোগ্য, যার মধ্যে ১২ লাখ ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকও রয়েছেন। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক ফিলিস্তিনির এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া নিরাপত্তার কারণে নির্বাচন চলাকালীন পশ্চিম তীরের সব স্থল সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলে সাধারণত বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ভোটদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। একমাত্র কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরাই গত ২০ অক্টোবর আগাম ভোট দিয়েছেন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন হয়। তবে দেশটিতে কোনো একক দল কখনোই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
এবারের নির্বাচনে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোট রয়েছে:
১. ডানপন্থি ও অতি-ডানপন্থি জোট: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং বেশ কয়েকটি অতি-ডানপন্থি ও অতি-অর্থোডক্স দল নিয়ে গঠিত।
২. বিরোধী জোট: চারটি প্রধান ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল- যশার, ডেমোক্র্যাটস, ইয়েসরাইল বেইতেনু ও টুগেদার জোট।
শুক্রবার নির্বাচনি প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে শেষ জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, কোনো প্রধান জোটই এককভাবে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম নাও হতে পারে।
ইসরায়েলে ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীকে ভোট দেন না, বরং তারা সরাসরি রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে থাকেন। পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে হলে যেকোনো দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এই সীমানা পার হতে ব্যর্থ দলগুলোর ভোট বাতিল হয়ে যায়।
শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি দলের জরিপভিত্তিক পূর্বাভাস
যশার (নেতৃত্বে গাদি আইসেনকোট): ২২ থেকে ২৪ আসন
লিকুদ (নেতৃত্বে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু): ২১ থেকে ২৩ আসন
টুগেদার (নেতৃত্বে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিড): ১৩ থেকে ১৪ আসন
ডেমোক্র্যাটস (নেতৃত্বে ইয়ার গোলান): ৮ থেকে ৯ আসন
জয়েন্ট লিস্ট (আরব নেতৃত্বাধীন দল): ৯ থেকে ১০ আসন
ইয়েসরাইল বেইতেনু: ৮ আসন
উইমটেড তোরাহ জুডাইজম: ৮ আসন
শাস: ৭ থেকে ৮ আসন
ওৎজমা ইয়েহুদিত (নেতৃত্বে ইতামার বেন-গভির): ৭ থেকে ৮ আসন
রিলিজিয়াস জায়নানিজম-জেহুত: ৫ থেকে ৬ আসন
র্যাম : ৫ থেকে ৬ আসন
নির্বাচন পদ্ধতি
ইসরায়েলে ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীকে ভোট দেন না, বরং তারা সরাসরি রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে থাকেন। পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে হলে যেকোনো দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এই সীমানা পার হতে ব্যর্থ দলগুলোর ভোট বাতিল হয়ে যায়।
দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন ভাগ করে নেয়। নির্বাচনে জয়ী দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পায়, যা সর্বোচ্চ আরো ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। যদি কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশবাসীকে পুনরায় নির্বাচনে যেতে হয়।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
