সারাবছর যেমন-তেমন, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই বাঙালি বধূদের সাজে আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। শাড়ি, শাঁখা-পলা, সিঁথিজুড়ে চওড়া সিঁদুর, গয়নায় সাবেকিয়ানায় চোখ একেবারে জুড়িয়ে যায়। ছাপোষা মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘর হোক বা সেলিব্রিটি, ধনদেবীর আরাধনার দিন ঐতিহ্য়বাহী সাবেক সাজের মহিমা প্রতিটি ঘরকে আলোকিত করে! লক্ষ্মীপুজোয় পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানা সাজের এই ধারাবাহিকতা কি শুধুই বধূদের জন্যই প্রযোজ্য? স্বামী না থাকলে অর্থাৎ অবিবাহিতরা এই সাজের অধিকার থেকে কেন বঞ্চিত হবেন? শুনতে অবাক লাগলেও, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন এমন প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোন অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায়।
মা লক্ষ্মীর আরাধনার দিন বাঙালি বধূর বেশে দেখা মিলল পল্লবীর। হাতে মোটা শাঁখা-পলা, সিঁদুরে রাঙা সিঁথি! স্বামী ছাড়া একজন মেয়ের এই সাজ তো বাঙালি কল্পনাই করতে পারে না। সেই ভাবনা বদলে ‘ট্রেন্ড সেটার’ পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। সাজের কারণ ব্যাখা করে বলেছেন, অভিনয়ের সময় চরিত্রের প্রয়োজনে বহুবার বিয়ের সাজ সাজতে হয়। সেই সময় শাঁখা-পলা, সিঁদুর যেমন পরতে হয় তেমনই হয় ফুলসজ্জাও। তাহলে বিশেষ কোনও দিনে যেটা তাঁর অত্যন্ত ভালো লাগার এক দিন সেদিন কেন নিজের পছন্দ মতো সাজতে পারবেন না?
পল্লবীর অকপট স্বীকারোক্তি, এই সাজটা তাঁর খুবই পছন্দের। তাই সিঙ্গল হয়েও বাঙালি বধূর মতো সাজলে নিজেকে পরিপূর্ণ নারী বলে মনে হয়। স্বামী থাকলেই সিঁদুর পরা যাবে, এই প্রথাগত বিশ্বাসে বিশ্বাসী নন পল্লবী। ব্যক্তিগত মতামত জানাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি। তাঁর যুক্তি, আগে নিজেকে ভালোবাসতে হয়। নিজেকে ভালোবাসলেই সকলকে ভালোবাসা সম্ভব।
সিঁদুর পরা প্রসঙ্গে এদিন অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের মুখে শোনা যায় কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখার নাম। বলিউডের ‘উমরাওজান’-এর অন্ধভক্ত। পল্লবীর কথায়, তিনিও সিঁদুর পরেন। তবে কার নামে পরেন সেটা বিষয়ে অবগত নন (পল্লবী)। তবে পল্লবী শুধুমাত্র নিজের ভালো লাগার জন্যই সিঁদুর পরেন। পল্লবীর যুক্তি, “বর না হয় নাই থাকল, আমি তো বধূ হয়ে থাকলাম।”
