ছবিঃ সংগৃহীত
জর্দানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশে একটি গির্জায় বন্দুক হামলার ঘটনায় তিন সশস্ত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দীর্ঘ অভিযান শেষে বন্দুকযুদ্ধের পর তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জর্দানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে কারাকের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। কয়েক মিনিট ধরে চলা ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন এবং আরও ৪০ জন আহত হন। আকস্মিক এই হামলায় গির্জায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
জর্দানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা কারাকের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজনরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা অস্ত্রের ধরন এবং হামলায় সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জর্দান সরকার ঘটনাটিকে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো চরমপন্থী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশটির বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ হামলার কঠোর জবাব দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, জর্দানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির তরুণদের একটি অংশ কীভাবে চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
জর্দান মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক স্থিতিশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। সেখানে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে এ ধরনের সশস্ত্র হামলা বিরল ঘটনা। ফলে গির্জায় হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
মাতৃভূমির খবর
-20261026062708.jpg&w=1440&q=75)
