Published on
:
2 min read
অনলাইন ডেটিংয়ের যুগে ‘ঘোস্টিং’ শব্দটির সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। ডেটিং অ্যাপে কারও সঙ্গে আলাপ হলো, কয়েকটা ডেট দুর্দান্ত কাটল। আর ঠিক তার পরেই কোনও কারণ না জানিয়ে মানুষটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! অর্থাৎ টেক্সট-এর উত্তর অমিল, ফোনে কথা বলাও বন্ধ। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় ঠিক তার কিছুদিন পর থেকে। যখন আপনি নিজেকে সামলে নিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই দেখা যায় আপনার ইনস্টাগ্রাম স্টোরির ভিউয়ার্স লিস্টের একদম উপরে জ্বলজ্বল করছে সেই মানুষটির নাম!
হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ভাবে ফিরে আসাকে দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। ভাবতে শুরু করেন, বোধহয় ওই মানুষটি তার ভুল বুঝতে পেরে আবার ফিরে এসেছেন। কিন্তু এই ফাঁদে পা দেওয়ার আগে সতর্ক করছেন মনোবিদরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে সব পুরুষ ঘোস্টিং করার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকি মারে, তাঁদের ভুলেও দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
ঘটনাটা ঠিক কী?
ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে কয়েকটা ডেট খুব ভালো যাওয়ার পরে হঠাৎ যুগলের মধ্যে থেকে একজন নিখোঁজ হয়ে যান। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে ওই ব্যক্তি নিয়মিত সঙ্গীর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দেখতে শুরু করেন। এহেন আচরণ দেখে কারও কারও মনে হয়, তা হলে বোধহয় সঙ্গীটি আবার ফিরে চাইছেন বা আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকিঝুঁকি মারার রহস্য কী?
অনেকেই মনে করেন, প্রাক্তনের স্টোরি দেখা মানে হয়তো অনুশোচনা বা ভালোবাসার লক্ষণ। মনোবিদরা এই ভুল ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য,
১. যখন ওই পুরুষের হাতে নতুন কোনও সঙ্গী বা ডেটিং পার্টনার থাকেন না, তখন সে বোর হয়ে পুরোনো বা পরিচিত কারও প্রোফাইলে চক্কর কাটতে শুরু করে।
2. এটি মূলত ‘মাইন্ডলেস স্ক্রোলিং’ বা টাইমপাস। তাঁর সত্যি সত্যি যোগাযোগ করার কোনও ইচ্ছে নেই। সে আশা করে মেয়েটি নিজে থেকে গিয়ে তাঁর স্টোরি দেখবে বা লাইক-মেসেজ পাঠাবে, যাতে বিনা পরিশ্রমে একটা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা যায়।
3. কোনও রকম দুঃখপ্রকাশ না করে বা ঘটনার জবাবদিহি না করে স্রেফ নীরবে অনলাইনে নজর রাখার মানে এই নয় যে, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে ফিরে আসতে চান।
মনোবিদরা বলছেন, সম্পর্ক ভাঙার জন্য ‘ঘোস্টিং’ যথেষ্ট বড় রেড ফ্ল্যাগ। যাঁরা একবার কোনও ব্যাখ্যা ছাড়া আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পেরেছেন, তাঁরা কোনও ভাবেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য নন। তাই বিভ্রান্ত না হয়ে বা অতিরিক্ত বিশ্লেষণ না করে সোজা ‘ব্লক’ বোতাম টিপে নিজের সীমানা বা বাউন্ডারি তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে আপনার মূল্য বোঝেনি, তাঁর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দরজা খোলা রাখার কোনও মানেই হয় না!