নাটোরে হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংসদ সদস্যের পুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে (৫০) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার রাতে গুরুদাসপুরের ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক নুরুজ্জামান মিন্টু নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নুরুজ্জামান মিন্টুকে ডিবি পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে উক্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল। সে সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে শাকিলের একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি এমপিপুত্র মিন্টুর নির্দেশেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
এদিকে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নিহত শাকিলের বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। তিনি নিহতের বাবা রবিউল করিম, মা তশরী বেগম, স্ত্রী হাফসা শারমিন ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অপরাধী যদি নিজের ছেলেও হয়, তবে তাঁর কোনো আপত্তি নেই; তিনি পরিবারের পাশে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।
তবে নিহতের বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি রবিউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘটনার পর গত ১৯ অক্টোবর চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তাঁদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামি হিসেবে মামলা নথিভুক্ত করে। ঘটনার ১২ দিন পার হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমপিপুত্র আটক হলেও প্রভাবের কারণে পার পেয়ে যেতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন এবং হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতেই কিছুটা সময় লাগছে। এমপিপুত্রের নাম আলোচনায় আসায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, দ্রুতই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আজ বাদ আছর রাজধানীর পল্টন ময়দানে জানাজা শেষে শাকিলের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। রাতে গুরুদাসপুর সরকারি বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পুরানপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা চাঁচকৈড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
জেএইচআর
