নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দেহ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত শ্যামল শর্মা উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শুসেন শীলের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৬ অক্টোবর রাতে আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামে এক নারীকে ডোমারের নীলাহাটি এলাকায় নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে নেওয়া হয়। সেখানে দেহ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মার অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ফোন করে শ্যামল শর্মাকে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ কয়েকজন তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কৃষ্ণ শর্মা জানান, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর ভাই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামল শর্মার নাভির নিচে রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহনাজ বেগম (৩০) ও আব্দুর রশীদকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শাহনাজ রাজশাহীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত রমজান আলীর স্ত্রী। আব্দুর রশীদ ডোমারের হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম সরকার শ্যামল শর্মার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
