গত ২০ তারিখ সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে লোকসভার সচিবালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে চতুর্থ বারের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর চিঠি লিখেছিলেন এনসিপিআই-এর কুড়ি জন সাংসদ। উত্তর দেওয়ার জন্য ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। তার ঠিক দু’দিন পর স্পিকার জানিয়েছিলেন, আর বাড়তি সময়ের আবেদন গ্রাহ্য করা তো হবেই না, দু’সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হবে না। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ২০ তারিখের পর ছ’দিন গড়িয়ে গেল। এখনও স্পিকারের সচিবালয় থেকে এনসিপিআই-এর আবেদনের উত্তরই দেওয়া হয়নি।
মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির বলছে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। বিশ সাংসদকে এত বার করে সময় চাইতে হচ্ছে, কারণ তাঁরা বেআইনি ভাবে দলত্যাগ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যের কোনও সারবত্তা নেই। শুধু নতুন তারিখ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “দশম তফসিলের বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট। সংসদীয় বা বিধানসভা দল এবং মূল রাজনৈতিক দলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আমাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সরল। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল।” তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, “সংবিধান তার নিজস্ব প্রজ্ঞায় এই বিষয়ে চার জন ‘রেফারি’-কে দায়িত্ব দিয়েছে— পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার, লোকসভার স্পিকার, নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট। আমরা সংবিধানের উপর আস্থা রাখি।”
রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, যে দু’সপ্তাহ বাড়তি চেয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদরা, তার প্রথম সপ্তাহ এমনিতেই কেটে গেল। আগামিকালও স্পিকার ব্যস্ত থাকবেন ব্রিকস-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলির সংসদীয় সম্মেলন নিয়ে। তার পরে হয়তো তাঁর সচিবালয় ৩ নভেম্বরের পরিবর্তে দু’ বা তিন দিন আগের তারিখকে সময়সীমা হিসেবে ধার্য করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের কাছে উত্তর চাইবেন। সূত্রের খবর, সাংসদদের তরফে উত্তরের বয়ান তৈরি করছেন আইনজীবীরা।
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
