আরব সাগরের ঢেউয়ের শব্দে ভাঙতে পারত ঘুম। আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে আলোকঝলমলে বাণিজ্যনগরীকে মায়াবী নেশায় কাটাতে পারতেন সন্ধ্যাগুলো। ইত্ছে হলেই রাজার মতো সেখানেই থেকে যেতে পারতেন। কিন্তু পারলেন কই? মন যে পড়ে থাকে ভাগীরথীর পাড়ে, জিয়াগঞ্জের সেই চেনা গলিতে। যেখানে মাটির গন্ধ আছে, উঠোনে রোদ পড়ে, আর মায়ের হাতের ডালের গন্ধে মন ভরে যায়। তাই সব কাজ ফেলে আবার ফিরলেন। তিনি সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং।
কোনও ঘোষণা নেই, কোনও ঢাকঢোল নেই। এক দুপুরে হলুদ পাজামা-পাঞ্জাবি, পায়ে চটি, মুখে সেই লাজুক হাসি নিয়ে সোজা হাজির হলেন নিজের রেস্টুরেন্ট ‘হেঁশেল’-এ। সেখানের কর্মীরা তাঁর বড্ড আপন। তাঁকে হেঁশেলের কর্মীরা প্রথমে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। যে মানুষটার গান শুনে গোটা দেশ আবেগে ভাসে, তিনি আজ সামনে দাঁড়িয়ে! তার পরই সব জড়তা ভেঙে গেল। কারণ, তিনি এলেন বস হয়ে নয়, দাদা হয়ে। বড়দা। একটা কাঠের টেবিলে সবাইকে নিয়ে বসলেন।
একই থালায় ভাত, ডাল, আলুপোস্ত, মাছের ঝোল। খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘কীরে, বাড়িতে সব ভালো তো? ছেলেটার পড়াশোনা কেমন চলছে?’’ কর্মীদের চোখে জল। এই আন্তরিকতা কোটি টাকা দিয়েও কেনা যায় না। এক কর্মী ফিসফিস করে বললেন, ‘‘মনে হল পরিবারের কেউ বহুদিন পর বিদেশ থেকে ফিরল।’’ আসলে হেঁশেল শুধু একটা রেস্টুরেন্ট নয়। এটা অরিজিতের শিকড়। এই শহরের ছাত্রদের কথা ভেবে তিনিই বলে রেখেছেন, ‘‘কম টাকায় পেট ভরে খাওয়াতে হবে। আমার শহরের কোনও ছেলে যেন না খেয়ে থাকে।’’

তাই আজও কলেজ পড়ুয়ারা ৫০-৬০ টাকায় পেট ভরে ভাত খেয়ে যায় এখানে। ছবিটা সোশাল মিডিয়ায় আসতেই বাঁধ ভাঙল আবেগের। কেউ লিখল, ‘সাফল্য অনেকের আসে, কিন্তু শিকড় ভোলে না ক’জন?’ কেউ লিখল, ‘এই জন্যই তুমি সবার থেকে আলাদা, অরিজিৎদা।’
