হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার রাতেই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল ঝড়ের অভিমুখ। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী ২৮ তারিখ অর্থাৎ বুধবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় অর্ণব আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। এমনকী হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিমি। ইতিমধ্যে অন্ধপ্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে বঙ্গের ঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও আজ, মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র। সেই কারণে সতর্ক করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের টানে বাংলায় পারদ পতন হবে। জেলায় জেলায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। কাল বুধ থেকে কলকাতার পারদ নিম্নমুখী হবে বলে পূর্বাভাস আলিপুর হাওয়া অফিসের।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাতেই শক্তিশালী সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বর্তমানে ঝড়ের অবস্থান পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে। গোপালপুর থেকে ৪০০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে। বিশাখাপত্তনম থেকে ৩৫০ কিমি দক্ষিণপূর্বে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া থেকে ৪২০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। আবহাওয়াবিদদের কথায়, পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এগোবে অর্ণব। এরপর উত্তরপশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে ২৮ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ইয়ানামের কাছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করবে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে।
এদিকে অর্ণবের জেরে আজ, মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হবে বঙ্গে। হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে। সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। তবে আগামিকাল বুধবার থেকে বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ভারী বৃষ্টি হবে বৃহস্পতিবারও। বৃষ্টি হবে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ফলে এই সময়ে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের টানে বাংলায় পারদ পতন হবে। জেলায় জেলায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। কাল বুধ থেকে কলকাতার পারদ নিম্নমুখী হবে বলে পূর্বাভাস আলিপুর হাওয়া অফিসের। যদিও বাংলায় এখনও পাকাপাকিভাবে শীত আসেনি। ঋতু ক্যালেন্ডারে এখন হেমন্ত বিরাজ করছে। হেমন্তে শীতের অনুভূতি পাচ্ছে জেলাগুলি। গভীর রাতে ও ভোরে শীতের শিরশিরানি ভালোই বোঝা যাচ্ছে। সোমবার পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন পারদ ১৯ ডিগ্রিতে নেমেছে। এতদিন পশ্চিমি এই জেলার সর্বনিম্ন পারদ ২০ থেকে ২২ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছিল। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলায় দিনে গরম থাকলেও ভোরের দিকে গায়ে হালকা চাদর দিতে হচ্ছে। কলকাতায় রাতের পারদও নামছে ২৩.৬ ডিগ্রিতে রয়েছে। যা স্বাভাবিকের একদম দোরগোড়ায়। বুধ ও বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন পারদ ২১ ডিগ্রিতে নামতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটলে ফের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কিন্তু সেটা সামান্য উর্ধ্বমুখী হবে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পারদ আবার নিম্নমুখী হতে থাকবে।
