যা মনে করা হয়েছিল, তার আগেই গতি বাড়িয়ে ডাঙা ছুঁয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের বাইরের বলয়। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা আর বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনও এলাকা ধরে হতে চলেছে ল্যান্ডফল। প্রতিবেদন লেখার সময় বঙ্গোপসাগরের উপরে ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। যখন ল্যান্ডফল হবে, তখন মাঝেমধ্যে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটারের আশপাশে। অতি তীব্র সেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যে কলকাতা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। চার জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর মঙ্গলবার রাত ১০টায় বুলেটিন প্রকাশ করে জানিয়েছে, শেষ ছ’ঘণ্টায় অর্ণবের গতিবেগ ছিল ১৮ কিলোমিটার। বিকেল সাড়ে ৫টার সময় ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়। মছলিপত্তনম থেকে তার দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। সাগরের উপরে তার গতিবেগ ঘোরাফেরা করছে ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটারের মধ্যে।
ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বাইরের বলয় ইতিমধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। এটিই সবার আগে স্থলভাগে ঢোকে। ২৮ অক্টোবর রাত ২টো থেকে ৪টের মধ্যে ল্যান্ডফল হবে অর্ণবের। অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হয়ে সে ঝাঁপাবে। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা ঝড়ের গতি মাঝেমধ্যে হতে পারে ১৫০ কিলোমিটার। তার প্রভাবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকবে। চলবে ঝড়বৃষ্টি।
বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়।
বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।
