আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই পয়েন্ট টেবিলে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত খেলা তিন সিরিজের ছয়টি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় এবং একটিতে ড্র নিয়ে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে অবস্থান করছে টাইগাররা।
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নাম লেখাতে হলে সমীকরণটা পরিষ্কার—ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন চার টেস্টেই জয় তুলে নিতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে অন্তত একটি ম্যাচ ড্র করতে হবে এবং অন্য দলগুলোর ফল পক্ষে এলে তবেই ঐতিহাসিক সেই সাফল্যে পৌঁছাবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সেই স্বপ্নের ফাইনালে যাওয়ার মিশনে টাইগারদের প্রথম বাধা ক্যারিবিয়ানরা। আগামী বুধবার থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার কথা জানান দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
দলের প্রস্তুতি ও ফোকাস নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘সবাই এখন পুরোপুরি টেস্ট ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার একটা দারুণ লক্ষ্য ও তীব্র আকাঙ্ক্ষা সবার মাঝেই রয়েছে। আমাদের সামনে এই প্রথম এমন একটা সুযোগ এসেছে, তাই দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে এবং অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ঐতিহাসিক মাঠে টেস্ট জয়ের দারুণ সব স্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ড্র করেছে দল। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাপ্তির হিসাবটা কিছুটা ভিন্ন। ফাইনালের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে যাওয়া ক্যারিবিয়ানদের লক্ষ্য এই সিরিজ জিতে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান একটু ভালো করতে।
এখন পর্যন্ত ৫ সিরিজে ১২ ম্যাচ খেলে মাত্র দুটিতে জেতা উইন্ডিজ ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে রয়েছে। এর আগের তিন চক্রেও টেবিলের অষ্টম স্থানেই আসর শেষ করেছিল তারা। ফলে এই শেষ সিরিজটি জিতে প্রথমবারের মতো আটের ঘর থেকে ওপরে ওঠার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি বেশ আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, ‘সামনের এই দুটি টেস্ট আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ। ২০২৫ সালে আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিলাম, তার কাছাকাছি পৌঁছানোর এটাই শেষ সুযোগ। আমরা প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানিয়েই মাঠে নামব এবং জয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুখিয়ে আছি।
