দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে এবার হকারদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এর আগে একই ইস্যুতে হামলার শিকার হয়েছিলেন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে কর্মীদের উপরও একাধিকবার হামলার অভিযোগ রয়েছে। বারবার অভিযান, সংঘর্ষ ও বাধার পরও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। এতে হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৫ অক্টোবর শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সিটি করপোরেশনের কর্মীদের নিয়ে অভিযান চালানোর সময় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হকাররা প্রশাসককে ঘিরে ধরেন। উচ্ছেদকর্মীদের মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মীদের এভাবে বাধার মুখে পড়ার ঘটনায় নগরজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ৩ মে নগরীর চাষাঢ়া নূর মসজিদ এলাকার সামনে উচ্ছেদ অভিযানে নিয়োজিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযান চলাকালে একদল হকার মিছিল নিয়ে এসে কর্মীদের ঘিরে ধরে। এতে জাহাঙ্গীর ও রুহুল নামের দুই কর্মচারীসহ পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন। আহতদের কাছ থেকে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে সংঘাতের ইতিহাস আরও পুরোনো। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শহরের ফুটপাত থেকে হকার সরানোকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় আইভীসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৈঠকে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের স্থায়ী বাস্তবায়ন হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল নিয়ে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। ফুটপাতের বড় অংশে দোকান বসায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নতুন করে অভিযান জোরদার করে সিটি করপোরেশন। গত ১৩ এপ্রিল চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হল এলাকা থেকে শুরু হওয়া অভিযান পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচালিত হয়। এতে কিছু এলাকায় ফুটপাত চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠে। স্বস্তি ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে বারবার বাধা ও হামলার ঘটনায় সেই উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক স্থানে আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। ফলে একই জায়গায় বারবার অভিযান চালাতে হচ্ছে। শুধু উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; দখল ঠেকাতে ধারাবাহিক নজরদারি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব। সেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে প্রশাসক থেকে শুরু করে কর্মীদের বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হলে নগর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবসার জায়গা নির্ধারণ, দখলকারীদের তালিকা তৈরি এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আইভীর সময় থেকে চলে আসা হকার সংকট সাখাওয়াতের সময়েও সংঘাতের নতুন অধ্যায় তৈরি করবে, আর ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ
