Published on
:
3 min read
‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’— কোনও কাজ না করে শুয়ে-বসে থাকা। সব সময়ে ব্যস্ত থাকেন কিংবা কোনও না কোনও কাজ করতে থাকেন? এই ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে একটু থামা এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোই হলো ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’।
টু ডু লিস্ট মিলিয়ে কাজ করা, প্রতিনিয়ত নতুন লক্ষ্য স্থির করা, প্রতি মুহূর্ত নিজেকে প্রমাণ করা— এই ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে মাঝেমধ্যে একটু থামতে হয়। মাঝেমধ্যে চুপচাপ বসে থাকা, জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকা কিংবা অলসভাবে শুয়ে থাকার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।
প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই, জীবনে বিশ্রামেরও প্রয়োজন রয়েছে। সব সময়ে উৎপাদনশীল থাকার চাপ না নিয়ে মাঝেমধ্যে একটু থামা, নিজের ভাবনাকে সময় দেওয়া এবং চারপাশের ছোট ছোট মুহূর্তকে উপভোগ করাই হলো ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’।
নিজেকে সময় দেওয়া কেন জরুরি?
কোনও কাজ না করে চুপচাপ বসে থাকা মানেই অলসতা নয়। বরং, প্রতিদিনের কাজের চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করাই এই অভ্যাসের মূল কথা। এই সময়ে কোনও কাজ শেষ করার তাড়া থাকবে না, লক্ষ্য পূরণের চাপও থাকবে না। এমনকী, মোবাইলের স্ক্রিন থেকেও দূরে থাকবেন। বরং, বরং, এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বসে থাকবেন, শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখবেন, গাছের পাতা দুলছে, সেটা দেখবেন — এমন ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই উপভোগ করবেন।
‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’-এর কী কী সুফল রয়েছে?
মানসিক চাপ কমে: কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছেন। মানসিক ও শারীরিক ভাবে ক্লান্ত। তখন কাজ থেকে বিরতি নিন এবং শুয়ে-বসে সময় কাটান। মাসে এক-আধ বার এই কৌশল কাজে লাগালে দৈনন্দিন চাপ সামলানো সহজ হয়ে উঠবে।
সৃজনশীলতা বাড়ে: প্রডাক্টিভিটির পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ দিক নিয়েও ভাবতে হয়। রোজের ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে যায় সৃজনশীলতা। ভাবতে চাইলেই যে মনে ভাবনা আসে না। বরং, মাঝেমধ্যে মনকে শান্ত করতে হয়। নিজের মতো ভাবনাচিন্তা করার সুযোগ মিললে দেখবেন নতুন ধারণা জন্ম নেবে।
বর্তমানকে অনুভব করতে শেখায়: ব্যস্ততার কারণে আশপাশের ছোট ছোট বিষয় আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসলে পাখির ডাক, হাওয়ার শব্দ কিংবা জানলা দিয়ে আসা রোদ নতুন করে অনুভব করা যায়। এতে নিজের সঙ্গে এবং চারপাশের জগতের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে।
কর্মশক্তি ফিরিয়ে আনে: বিশ্রাম কোনও বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনেরই প্রয়োজনীয় অংশ। বিশ্রাম নিয়ে যখন কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসবেন, তখন আবার নিজের মধ্যে সেই একই এনার্জি ফিরে পাবেন। সহজ কথায়, ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’ অলসতা নয়। বরং ব্যস্ত জীবন ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করার উপায়।
সব মিলিয়ে, ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’ মানে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং ব্যস্ত জীবনের মাঝে নিজেকে একটু সময় দেওয়া। সব মুহূর্তকে প্রডাক্টিভ করে তোলার প্রয়োজন নেই। কখনও কখনও কিছু না করে চুপচাপ শুয়ে-বসে থেকেও জীবনকে উপভোগ করা যায়।
FAQ
১. ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’ কী?
কোনও নির্দিষ্ট কাজের লক্ষ্য বা তাড়া ছাড়া নিজের মতো করে সময় কাটানোই ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’।
২. কিছু না করে সময় কাটানো কি অলসতা?
না। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং কাজের চাপ থেকে বিরতি নিয়ে শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
৩. ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’-এর উপকারিতা কী?
এটি মানসিক চাপ সামলাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং বর্তমান মুহূর্ত উপভোগ করতে সাহায্য করতে পারে।
৪. কী ভাবে এই অভ্যাস শুরু করবেন?
প্রতিদিন কয়েক মিনিট মোবাইল থেকে দূরে থেকে চা খাওয়া, আকাশ দেখা বা প্রকৃতির শব্দ শোনার মাধ্যমে শুরু করতে পারেন।
৫. বিশ্রাম নেওয়া কি কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে?
হ্যাঁ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ক্লান্তি কমাতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
