
বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
কাজী খোরশেদ আলম,
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সুমাইয়া ইসলাম রুমি (২২)-কে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা মোছাঃ রিনা ইসলাম। মামলায় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ আহম্মেদ বায়জিদ (৩২) ও শ্বাশুড়ি মোছাঃ জোহরা খাতুনকে (৬০) আসামি করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর বিকেল থেকে রাত ৯টার মধ্যে উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে সুমাইয়া ইসলাম রুমির সঙ্গে ইমতিয়াজ আহম্মেদ বায়জিদের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে সুমাইয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বাশুড়ি তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে নিহতের মা ইমুতে ভিডিও কলের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় মেয়ের স্বামী ও শ্বাশুড়ি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে দুই আসামি সুমাইয়াকে টানাহেঁচড়া করে ঘরের মেঝেতে ফেলে মারধর করেন এবং তাঁর তলপেটে লাথি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল ফোনটি হাত থেকে পড়ে গেলে বাদী মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। পরে কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিপক্ষের বাড়ির লোকজন মোবাইল ফোনে বাদীকে জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তিনি আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ এবং গলার সামনের অংশে কালচে দাগ দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘরের একটি তীরের সঙ্গে ওড়না ঝুলতে দেখার কথাও জানান তিনি।
বুড়িচং থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জিয়া বলেন, মামলার ১ নম্বর আসামী নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে এবং ২ নং আসামী নিহতের শ্বাশুড়ীকে আটক করার চেষ্টা চলছে।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা আন্তর্জাতিক রাজনীতি
