পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
আজ মঙ্গলবার যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, 'পুলিশ বাহিনীর প্রধান সরকারের একটা অংশ, তিনি ক্রসফায়ারের কথা বলেন কী করে? যদি স্লিপ অব টাং হয়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা।'
'১৭ বছর আমরা ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যার রক্ত ঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এর পরিণতিতে আমরা জুলাই পেলাম, ৫ আগস্ট পেলাম এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলো, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন। সারাদেশের প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ। সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা (ক্রসফায়ার) আসাটা সত্যি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে,' বলেন তিনি।
গতকাল ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’
পরে পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় জানায়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে কথা বলতে চাননি। আইন মেনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও এক বিবৃতিতে বলেছে, আইজিপির বক্তব্যকে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে বুঝতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দেশে পর্যাপ্ত আইন আছে, আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। এই আইন দিয়েই সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব। আইন দিয়েই অপরাধ দমন করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অনেক সৎ-দক্ষ অফিসার আছেন। তাদের কাজে লাগান। আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করেন, প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রয়োগ করেন। তাহলে সমাজে কোনো অপরাধ থাকবে না।'
'বেআইনি পদ্ধতি কখনোই অপরাধ দমনে কার্যকর হয় না। তাই সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হয়ে কথা বলতে হবে। সস্তা ক্রেডিট নেওয়ার জন্য কথা বললে দেশের ক্ষতি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত হবে,' বলেন তিনি।
