বর্তমান সময়ে দেনমোহরের অঙ্কটা লাখ ছাড়িয়ে কোটিতে ঠেকতেও দেখা যায়। কিন্তু এই চেনা বৃত্তের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন নজির গড়লেন মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের পরিচিত অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল। মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন থিয়েটার ও আবৃত্তিকর্মী জান্নাতুন নেছাকে।
সম্প্রতি মিরপুরের এক রেস্তোরাঁয় বসেছিল তাদের বিয়ের আসর। সেখানে কোনো রাজকীয় জাঁকজমক ছিল না, ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক পরম আবহ। প্রবীণ অভিনেতা মামুনুর রশীদ, লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হকসহ দুই পরিবারের খুব কাছের মানুষেরা উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ করেছেন এই নবদম্পতিকে। হঠাৎ শুনলে মনে হতে পারে, কেবলই আলোচনায় আসার জন্য হয়তো এমন সংখ্যা বেছে নেওয়া। কিন্তু অভিনেতা সুজাত শিমুল জানালেন, এই ‘ট্রিপল নাইন’-এর পেছনে রয়েছে তাদের গভীর জীবনদর্শন এবং কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি।
সুজাত শিমুল বলেন, ‘৯৯৯ পাশাপাশি থাকলেও সংখ্যাটির পরের ঘরে কিন্তু একটি শূন্যস্থান রয়ে যায়। এটি মূলত মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবন কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত বা পরিপূর্ণ হয় না; কোথাও না কোথাও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। আমরা এই অপূর্ণতাকে মেনে নিয়েই একসঙ্গে পথ চলতে চাই।’
দর্শনের বাইরেও এই সংখ্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক জরুরি ও পারিবারিক গল্প। ৯৯৯ মূলত দেশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর। অভিনেতা রসিকতা ও ভালোলাগা মিশিয়ে জানান, তার শ্বশুর ছিলেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত। ফলে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবার নম্বর এবং শ্বশুরের পেশাÑসব মিলিয়ে এই সংখ্যাটি তাদের ভীষণ পছন্দের। বিয়েকে জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ মনে করেই তারা দৈনন্দিন জীবনের এই প্রয়োজনীয় নম্বরটিকে কাবিনে ধরে রাখতে চেয়েছেন।
এই গ-ি ভাঙার পেছনে পাত্রী জান্নাতুন নেছার সাহসের প্রশংসা করে শিমুল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি আমরা দিতে চেয়েছি তা হলোÑবিয়েতে আস্থার গুরুত্ব। একজন নারী হিসেবে জান্নাতুন যে ৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে, এটা একটা বিশাল সাহসের ব্যাপার। আমরা সামাজিকভাবে সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস ও বিয়ের মূল তাৎপর্যকে তুলে ধরতে চেয়েছি।’
আড়ম্বরহীন কিন্তু গভীর অর্থবহ এই বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সংস্কৃতি অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এই দম্পতি। সুজাত শিমুলের শোবিজ অঙ্গনে পথচলা শুরু হয়েছিল কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে। আবৃত্তি করতে করতেই তিনি অভিনয়ের প্রতি তীব্র টান অনুভব করেন। সেই প্যাশন থেকেই ২০০৬ সালে যুক্ত হন আরণ্যক নাট্যদলে। মঞ্চের পাশাপাশি ২০১০ সালের দিকে টেলিভিশন নাটকে সুজাত শিমুলের পদচারণা শুরু হয়। ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ ও ‘মোমিন মৃধা বাড়ি নেই’-এর মতো প্রজেক্টগুলোতে কাজ করে তিনি নিজের প্রতিভার জানান দেন। পরবর্তীতে ওটিটি ও বড় পর্দায় তার উপস্থিতি বেশ প্রশংসিত হয়।
