দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের অর্থ আসছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে, আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে আরও বেশি অর্থ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন-সহযোগীরা বাংলাদেশকে প্রায় ৬৬ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণছাড় কমেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে, একই সময়ে আগের ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন ঋণের অর্থছাড়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো বড় উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসেনি। এসব দেশের ও সংস্থার মধ্যে শুধু জাপান ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ সময়ে বড় উন্নয়ন-সহযোগীরা আগের প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় করেছে। এ সময়ে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১২৭ কোটি ডলারের। এর মধ্যে বড় উন্নয়ন-সহযোগীদের নতুন প্রতিশ্রুতি
ছিল সীমিত। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসে জাপান ৩৫ লাখ ডলারের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ঋণছাড়ে এগিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি : নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কম থাকলেও আগের প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এডিবি দিয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার। এ সময়ে ভারত ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, রাশিয়া ২ কোটি ডলার এবং চীন দেড় কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে। অর্থাৎ নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি না থাকলেও আগের চুক্তি অনুযায়ী এসব দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ।
ঋণ পরিশোধে বাড়ছে চাপ : বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশকে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। বিপরীতে, এ সময়ে নতুন করে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ, নতুন ঋণ হিসাবে যত অর্থ এসেছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি চলে গেছে আগের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। এ ব্যবধানের কারণে বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে।
