যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি সমাবেশে তিনি দাবি করেন, একজন মুসলিম চিকিৎসক সিনেটর নির্বাচিত হলে বড়দিনও বাতিল হয়ে যেতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগানে এক নির্বাচনি সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি এল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেন। এমনকি এল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তাকে প্রতিদিন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর থাকুক।’
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি, যাতে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে না পারেন।’
এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
এর আগে তার বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যকে মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি অনেকটা উড়িয়ে দিয়েছিলেন এল-সাইয়েদ। তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে এ আসনের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে রিপাবলিকান পার্টি। বর্তমানে সিনেটে দলটির ৫৩টি আসন রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সিনেটের মোট ৩৫টি আসনে ভোট হওয়ার কথা।
২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় থেকেই রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ব্যবহার করে আসছেন ট্রাম্প।
২০১৫ সালে প্রথমবারের নির্বাচনি প্রচারের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধের পক্ষে তিনি অবস্থান নেবেন।
এর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক নির্বাহী আদেশে একাধিক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প। তবে আদেশটি বেশিদিন কার্যকর ছিল না।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
