সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মোনতাসিম বিল্লাহকে (যিনি মোক্তাসিম আহমেদ নামেও পরিচিত) খুলনায় এক তরুণীসহ আটক করেছে পুলিশ। তিনি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম ফারুকের ছেলে। পড়াশোনার সুবাদে তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এই ঘটনার পর থেকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলাসহ পুরো জেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) বিকেলে খুলনার খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার ওই ভাড়া বাসায় এক তরুণীর সন্দেহজনক যাতায়াত লক্ষ্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা একত্র হয়ে খালিশপুর থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণী ও মোনতাসিম বিল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ আটক তরুণীর নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি।
থানায় আটকের পর স্থানীয় সংবাদকর্মী ও উপস্থিত লোকজনের সামনে নিজেকে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহর ভাইপো বলে দাবি করেন মোনতাসিম। তবে তার এই দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্যের পরিবারের সঙ্গে তার প্রকৃত আত্মীয়তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতেই তিনি প্রভাবশালী এমপির নাম ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খালিশপুর থানার ওসি শাহজাহান আহমেদ জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এক যুবক ও এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২৬ অক্টোবর (সোমবার) সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
খালিশপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইদুর রহমান জানান, তালা উপজেলার পরানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোনতাসিম কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং খুলনায় থেকে পড়াশোনা করতেন।
সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড়
ঘটনাটি সাতক্ষীরায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার সন্তানের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, বরং পুরো সাতক্ষীরার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোনতাসিমের বাবা গোলাম ফারুকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
