পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনপদে ভোরের কুয়াশা ও হালকা হিমেল বাতাসে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। দিনের বেলায় রোদের তাপ থাকলেও শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে হালকা শীত। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতিতেও দেখা যাচ্ছে শীতের পূর্বাভাস।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশার আবরণ দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ, ফসলের মাঠ, নদীর তীর ও খোলা জায়গায় কুয়াশার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোরের দিকে বাতাসে শীতল অনুভূতি থাকলেও সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে তা কমে আসে।
পটুয়াখালী সদর, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, মহিপুর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকিসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতের আগমনী আমেজ তৈরি হয়েছে। সকালে ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু আর নদীর ওপর হালকা কুয়াশা প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন সৌন্দর্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে শেষ রাত ও ভোরের দিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে শীতলতা বাড়ছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও খোলা এলাকায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।
ভোরে ঘর থেকে বের হওয়া কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও পথচারীরা হালকা শীত অনুভব করছেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তাপে আবারও গরম অনুভূত হচ্ছে। ফলে একই দিনে গরম ও শীতল আবহাওয়ার ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন মানুষ।
দক্ষিণাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠঘেরা গ্রামীণ জনপদে ঋতু পরিবর্তনের এই আমেজ পরিচিত। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, এখন হেমন্তকাল। সাধারণত এ সময় থেকে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ভোরে কুয়াশা ও শিশিরের সৃষ্টি হয়।
তবে এখনো পুরোদমে শীত নামেনি। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় গরমের অনুভূতিও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নভেম্বরের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন না ঘটলেও ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর হিমেল বাতাসে দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতিতে ইতিমধ্যে শীতের আগমনী বার্তা মিলছে।
