মাত্র ৩৫ বলে শতরান করেছেন তিনি। ওপেন করতে নেমে বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে ৪৩ বলে ১৩৩ রানের জুটি বেঁধেছেন অভিষেক শর্মা। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে ৩৮ বলে তাঁর করা ১১৩ রান দলকে জিতিয়েছে। খেলা শেষে সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। আর সেখানেই এই জয়ের কৃতিত্ব নিজের পাশাপাশি বৈভবকেও দিলেন অভিষেক।
ফিল্ডিং করার সময়েই রান তাড়া করার পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন অভিষেকেরা। সে কথা নিজেই জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় ওপেনার বলেন, “আমি আর বৈভব ঠিক করেছিলাম, ব্যাট করতে নেমে উপভোগ করব। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে। ফিল্ডিং করার সময় দেখছিলাম, বলের বাউন্স একটু বেশি। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম, এই মাঠের কোন দিকের বাউন্ডারি বেশি ব্যবহার করা যাবে বা কোন বোলারকে কী ভাবে নিশানা করব। ঠিক করে নিয়েছিলাম, পেসারদের গতি ব্যবহার করব। এক বার ভাল শুরু হলে তা বজায় রাখব।”
কিন্তু পরিকল্পনা ও সেটা মাঠে নেমে বাস্তবায়নের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সেই কাজটা করে বৈভব। রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই চার মারে। দু’বল পরেই মারে ছক্কা। সেই শুরুটাই যে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল, স্বীকার করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বৈভব যে শুরুটা দিয়েছিল, তাতে আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। ওটাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। তার পর আর থামিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি।”
ধারাবাহিক ভাবে এত বড় বড় ইনিংস খেলার কৃতিত্ব প্রস্তুতিকে দিয়েছেন অভিষেক। পাশাপাশি কোচিং দলকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। অভিষেক বলেন, “দেখে মনে হয় খুব সহজ। কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। তার জন্য দরকার ভাল প্রস্তুতি। কোচেদের কথাও বলব। টানা সাইড-আর্ম বল করে যাওয়া সহজ নয়। আপনি হয়তো জানেন পিচ ও পরিবেশ কেমন হবে, কোন বোলারকে নিশানা করবেন, কিন্তু তার প্রস্তুতিই যদি না হয় তো করবেন কী ভাবে। গত কাল খুব ভাল অনুশীলন হয়েছে। সেটাই কাজে লাগিয়েছি।”
এই ম্যাচে ১৫ বলে অর্ধশতরান করেছেন অভিষেক। কিন্তু এখনও গুরু যুবরাজ সিংহের ১২ বলে ৫০ রানের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি তিনি। আগেও এই বিষয়ে তাঁকে খোঁচা মেরেছেন যুবি। এই ম্যাচের পর আরও এক বার যুবরাজের কথা বললেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “আমি আগেও এটা বলেছি। আমি জানি না, এত বছর আগে পাজি কী ক্রিকেট খেলত। মাঠে নেমে ১২ বলে ৫০ রান করা সহজ নয়। এক আধ বারই তা হয়। অবশ্য আমরা ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য খেলি না। আমরা খেলি দলকে জেতাতে। আমি আর বৈভব এই ম্যাচে সেটা করতে পেরেছি।”
