পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে মুম্বইতে কাজ করতে গিয়েছিলেন দুর্গাপুরের তরুণ। সেখানেই রহস্যমৃত্যু হল তাঁর। গলায় ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার হল কাজের জায়গা থেকেই! মুম্বই পুলিশ সেই দুঃসংবাদ ফোনের মাধ্যমে দুর্গাপুরে থাকা পরিবারকে জানিয়েছে। ছেলে ‘আত্মহত্যা’ করতে পারে না, তাঁকে ‘খুন’ করা হয়েছে। এমনই দাবি করেছে পরিবার। মৃত ওই তরুণের নাম বিশ্ব দে।
দুর্গাপুরের কাঁকসার বিরুডিহা এলাকায় বাড়ি বছর ২০ বয়সের বিশ্ব দে-র। সংসারে আর্থিক সমস্যা ছিল। সেজন্য পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজের জন্য গিয়েছিলেন বিশ্ব। মুম্বইয়ের বরালি এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করছিলেন ওই তরুণ। ফেব্রিকেশন ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন তিনি। ওই কারখানাতেই সোমবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখা যায় বিশ্বর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের তরফেই ওই ঘটনার কথা দুর্গাপুরের বাড়িতে জানানো হয়। ‘আত্মহত্যা’ করেছে ওই তরুণ? নাকি অন্য কোনও বিষয়? সেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পুলিশ সেটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছে বলে মৃতের পরিবার সূত্রে খবর। ছেলে এভাবে নিজেকে শেষ করতে পারে না বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। বিশ্বর দেহের ছবি দেখেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, ছবিতে যে পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে, তাতে আত্মহত্যার তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বরং বিশ্বকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মৃত যুবকের কাকা মদন দে বলেন, “আমরা ভাইপোর দেহের ছবি দেখেছি। কিন্তু ছবি দেখে আমাদের মনে হচ্ছে, ও আত্মহত্যা করেনি। ওকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে মেল মারফত বিষয়টি জানিয়েছি।” তাঁর আরও অভিযোগ, “যে ঠিকাদার ওকে কাজে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা চাই, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”
