দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মহল্লায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মালিকানাধীন জায়গায় পরিত্যক্ত শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিলেও সেটা বাস্তবায়ন করেনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। বর্তমানে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের বার বার তাগিদ দেয়া হলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত জামে মসজিদ সংলগ্ন শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটির ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৪ সালে বিকেএমইএ’র উদ্যোগে শ্রমিকদের চেক হস্তান্তরের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কাছে চাষাঢ়া শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান। পরে ২০১৫ সালে মে দিবসের অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সরকারকে ৩ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন এমপি সেলিম ওসমান। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ওই স্থানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শকের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মহল্লায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মালিকানাধীন জায়গায় দিল্লীর ফরটিস হাসপাতাল ও সরকারের পিপিপি চুক্তির আওতায় সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে ৩০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে যার টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে গেছে। আগামী সেপ্টেম্বরেই নির্মাণ কাজ চালু হবে বলে আশা করছি। ওই ৩০০ শয্যা হাসপাতালের মধ্যে ১০০ শয্যা শ্রমিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যাতে শ্রমিকরা কম খরচে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর ওই ঘোষণার ৯ বছর বেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্থের অভাবে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় চাষাঢ়া শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। ওই জায়গাটি বর্তমানে পরিণত হয়েছিল ডেঙ্গু মশার প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে। সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নির্দেশে নাসিকের টিম জঙ্গল পরিস্কার করে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে মশার ওষুধ ছিটানো হয়।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনের দিকের গেটের তালা খোলা রয়েছে। এর অভ্যন্তরে এক তলা ভবনটির বেশ কিছু কক্ষের দরজা খোলা। সেখানে নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আনাগোনা দেখা যায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এবিষয়ে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদাসীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
