প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত এক শ্রমিকের মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত শ্রমিকের নাম সাইম। তিনি মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে আমিরাবাদ এলাকায় সাইফুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করছিলেন সাইম। এ সময় ভবনের পাশের বিদ্যুতের খুটির সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
স্বজনেরা জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে তারা হাসপাতালে যান। তবে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সনাক্তকরণসংক্রান্ত কাগজ দিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে দেরি করা হচ্ছিল বলে তাদের অভিযোগ। এতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আরএমও ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, মরদেহ নিতে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারেননি। তাঁদের দাবি, মরদেহ আটকে রাখার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালে যান। তাঁরা নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, মরদেহ আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। জেলা প্রশাসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্বের কারণ এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
