জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল মামলাটি করেন। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক খুলনার উপপরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী।
মামলার আসামি এস এম মাহাবুবুর রহমান বর্তমানে নেত্রকোণা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে এস এম মাহাবুবুর রহমান ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫১ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। ঘোষিত সম্পদের মোট মূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫১ টাকা। তবে, দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে তার নামে ২ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ২৮৮ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৯১ লাখ ১৪ হাজার ৪০৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে তার মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৯৬ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, ব্র্যাক ব্যাংকের খুলনার বড় বাজার শাখা ও সোনালী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখায় তার মোট দায় রয়েছে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪১ টাকা। এই দায় বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৫ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার ৪১৩ টাকা। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৮ টাকা। ব্যয় বাদে তার নিট আয় বা সঞ্চয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৫ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, নিট সম্পদ থেকে গ্রহণযোগ্য আয় ও ব্যয় বিবেচনায় নির্ধারিত সঞ্চয় বাদ দিলে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার সম্পদের অসংগতি পাওয়া যায়। জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এই সম্পদ অর্জন ও নিজ মালিকানায় রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সম্পদ বিবরণীতে ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর এবং ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গোপন করা সম্পদের মোট মূল্য ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকা। এ অভিযোগে একই আইনের ২৬ (২) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
এ বিষয়ে দুদক খুলনার উপপরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, “প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা জেলা পরিষদে কর্মরত রয়েছেন। এ অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।”
