নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর সোমবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীর স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে রোববার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মেয়েটির বাবা মামলা করেন বলে জানান ওই থানার ওসি মোহাম্মদ মাহাবুব আলম।
কারাগারে যাওয়া নাজমুল আলম (৩০) একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লার কচুয়ার নুরপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- নাজমুলের মা রোকেয়া বেগম (৬৮), বোন আফরোজা বেগম (৪৫), ভাই রাসেল (৪২), ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), সাইফুল আলম (৩৬) এবং আব্দুর রহিম (৫০)।
এর আগে শনিবার রাতে ভূঁইগড় এলাকার তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সি ফারজানার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনি ফারজানাকে নিয়ে ভূঁইগড়ের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর তিন বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মুসুল্লিবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে ফারজানার সঙ্গে নাজমুলের বিয়ে হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এ দম্পতি কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নাজমুল মুন্সীগঞ্জে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা নেন। এরপর চাকরির সুবাদে নারায়ণগঞ্জে ভাড়া বাসায় ওঠেন।
ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে স্বামীর কাছে যেতেন। ২০ অক্টোবর হোস্টেল থেকে স্বামীর ফ্ল্যাটে যান। চার দিন পর তার মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা।
ফারজানার বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর সামর্থ্য অনুযায়ী জামাতাকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন তিনি। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর সেই সহযোগিতা কমিয়ে দিলে ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরে ওই মামলা সমঝোতার মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর রোববার ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, ওই দম্পতির ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে ফারজানা ‘আত্মহত্যা’ করছেন এবং আত্মহত্যার কারণ হিসেবে স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথা বলেছেন।
ওসি মাহাবুব আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
