পাসপোর্ট সাইজের প্রথম ফোল্ডএবল ফোন আইফোন ডুও বিক্রির সপ্তাহ না পেরোতেই স্ক্রিন বা ডিসপ্লে সমস্যার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকদের একাংশ। এ সমস্যার কথা স্বীকার করেছে অ্যাপলও।
এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসগুলো বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।
গেল সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের হাতে আইফোন ডুও তুলে দিতে শুরু করে অ্যাপল।
রয়টার্স লিখেছে, প্রাথমিক অনলাইন অর্ডার শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অ্যাপল স্টোরগুলোর সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন, পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা যায় এমন এক জটিল তৈরির পদ্ধতির কারণে আইফোন ডুও সরবরাহ ঘাটতিতে পড়তে পারে।
তবে বিক্রি শুরুর প্রথম সপ্তাহান্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রিনের নানা ত্রুটি তুলে ধরেছেন ব্যবহারকারীরা।
প্রকাশ পাওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ফোনটির ভেতরের ডিসপ্লের ঠিক মাঝের হিঞ্জ বা ভাঁজ হওয়ার জায়গায় ফেটে বা দাগ পড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সোমবার এ ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে অ্যাপল বলেছে, যেসব ডিভাইসে সমস্যা রয়েছে সেগুলোতে খুব দ্রুতই এই ত্রুটি প্রকাশ পাচ্ছে।
বিবৃতিতে অ্যাপল বলেছে, “অল্প সংখ্যক আইফোন ডুও ডিভাইসের ভেতরের ডিসপ্লেতে সমস্যা হওয়ার বিষয়ে আমরা জেনেছি।
“কোনো গ্রাহক যদি তাদের আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে নিয়ে সমস্যায় পড়েন তবে ডিভাইসটি বদলে নিতে তাদের ‘অ্যাপলকেয়ার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তবে ঠিক কী কারণে বা কারিগরি ত্রুটিতে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি অ্যাপল।
প্রযুক্তিপণ্য মেরামতের জনপ্রিয় সাইট ‘আইফিক্সইট’ বলেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বিশ্লেষণ করতে ফুটেজ, পেটেন্ট ও সিটি স্ক্যানের তথ্য ব্যবহার করে আইফোন ডুও হিঞ্জের একটি থ্রিডি মডেল তৈরি করে গবেষণা শুরু করেছে।
আইফিক্সইটের সিমুলেশন অনুসারে, ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসগুলোর সমস্যাটি এমন জায়গায় তৈরি হচ্ছে, যা স্ক্রিনের নিচে থাকা ডিসপ্লে কেবলের ঠিক নিচে ও কেন্দ্রীয় সাপোর্টবারের কাছাকাছি অবস্থিত।
আইফোনটি ভাঁজ করার সময় এ সাপোর্টবারটি স্ক্রিনের পথ থেকে যথাযথভাবে সরে যাচ্ছে না। ফলে ‘ভাঙনের জায়গার কাছাকাছি একটি ছোট স্ট্রেস হটস্পট বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
আইফিক্সইটের এ তথ্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি অ্যাপল।
এদিকে, আইফিক্সইট প্রতিবেদনে বলেছে, আইফোন ডুও তাদের পরীক্ষা করা এ পর্যন্ত ‘সবচেয়ে সহজে সারাইযোগ্য’ ফোল্ডএবল ফোন।
বাজার গবেষণা কোম্পানি আইডিসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেছেন, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর অ্যাপলের দ্রুত ডিভাইস বদলে দেওয়ার অফারটি ছিল এ পরিস্থিতির জবাবে ‘সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ’।
“২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ডে যখন সমস্যা দেখা দিয়েছিল সে কথা আমাদের সবারই মনে আছে। তবে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে যে কোনো ক্যাটেগরির পণ্যের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।”
