আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুজোর আবহে কলকাতা যখন আনন্দে মশগুল, ঠিক সেই সময়েই শহরে ঘটে গেল আরও এক বর্বরোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনা। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ থানা এলাকায় বন্ধুর ফ্ল্যাটে পার্টি করার নামে ডেকে এনে এক মহিলার শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের মত বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল সমাজ মাধ্যমে। ঘটনাটি গত ১০ অক্টোবরের। ঘটনার দু'দিন বাদে ১২ অক্টোবর নির্যাতিতা বালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা তাঁর লিখিত অভিযোগে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের উল্লেখ করেছেন। তবে যুবতীর বয়ান অনুযায়ী, তাঁরা পার্টি করতে নয়, জরুরি কারণে বালিগঞ্জে অপর আরেক বন্ধুর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। এরপর সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত বন্ধু প্রকাশের সঙ্গে বচসা বাঁধে এবং অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযুক্তের নাম প্রকাশ বাছাবাত (৩৮)। তিনি কলকাতা ২০নং শেক্সপিয়ার সরণীর বাসিন্দা। কলকাতার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী JD Groop এর কর্ণধার। এছাড়াও শহরে তাঁর একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগকারীণী এবং অভিযুক্ত দু'জনেই বিবাহিত এবং পূর্ব পরিচিত বলে জানা গেছে।
গত ১০ অক্টোবর রাত তিনটে নাগাদ অশান্তির পর শারীরিক নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানি করা হয় ওই মহিলার। তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে রাস্তায় বার করে দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও এমন চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। এরপর দু'দিন বাদে বালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হলে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে প্রকাশের বাড়িতে যায়। তবে সে সেখান থেকে পলাতক বলেই জানিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের দেখে ও অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। খোঁজ চলছে অভিযুক্ত প্রকাশের।
প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতা মহিলা। নির্যাতিতা মহিলা আদালতে জানান তিনি নিজেদের মধ্যে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে চান এবং এটা তাদের বন্ধুদের মধ্যে বিষয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশকে অন্ধকারে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দারস্থ হয়েছেন বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা মহিলার উপর চাপ সৃষ্টি করা ও প্রভাব খাটানোর কারণে পুলিশকে অন্ধকারে রেখে অর্থাৎ না জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলা তুলে নেওয়ার আর্জি জানালে মামলা খারিজ করার নির্দেশ দেয় আদালত।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, এই আবেদন কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে করা হয়েছিল। পুলিশকে অন্ধকারে রেখে মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে ও মামলা খারিজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশকে কোনওরকম কিছু জানানো হয় না। তাই লালবাজার পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা উচ্চতর আদালতে অর্থাৎ ডিভিশন বেঞ্চ বা সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হবেন। শহর কলকাতায় এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগারওয়াল জানিয়েছেন, পুলিশকে অন্ধকারে রেখে একতরফা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়েছিল। তাই কলকাতা পুলিশ উচ্চতর আদালতে এই বিষয়ে আবেদন করবে, যাতে অপরাধী কোনওভাবেই ছাড়া না পায়।
