স্পোর্টস ডেস্ক।।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রতিযোগিতা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘ডোমেস্টিক থ্রি’ বা ডি-থ্রি নামের এই টুর্নামেন্টে একই কাঠামোর অধীনে আয়োজন করা হবে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ম্যাচ। ছয়টি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দল নিয়ে এই উদ্যোগের লক্ষ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানো এবং ক্রিকেটারদের তিন সংস্করণেই খেলার সুযোগ তৈরি করা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে চলছে ডি-থ্রি ট্রফির প্রথম আসরের খেলোয়াড় নিলাম। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা ২৭৫ জন ক্রিকেটার থেকে দল গড়ছে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও নিলামে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ডি-থ্রি ট্রফির প্রথম আসরে মোট ৪২টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এর মধ্যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ওয়ানডে ও সাতটি চার দিনের ম্যাচ। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের প্রতিযোগিতা আগের মতোই আলাদাভাবে চলবে। একই প্রতিযোগিতার আওতায় তিন সংস্করণের ম্যাচ থাকায় ক্রিকেটারদের দক্ষতা ও সামর্থ্য বিভিন্নভাবে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে। সীমিত ওভারের পাশাপাশি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
প্রথম তিন মৌসুমের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দল পরিচালনার চুক্তি করেছে বিসিবি। দলগুলো হলো এইচ ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেনস ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ। প্রতিটি দল একজন করে আইকন ক্রিকেটার বেছে নিয়েছে। ওয়ালটনের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরচুন গ্রুপের তাওহীদ হৃদয়, একমি গ্রুপের মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, এইচ ব্লুস্টারের নুরুল হাসান সোহান এবং সিটিজেনস ব্যাংকের মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
ডি-থ্রি ট্রফির নিলামে খেলোয়াড়দের মূল্য নির্ধারণে টাকা নয়, ব্যবহার করা হচ্ছে পয়েন্ট। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ ১০ কোটি পয়েন্ট। এই বাজেটের মধ্যেই নিলাম থেকে ২২ জন করে ক্রিকেটার নিতে হবে দলগুলোকে।
ক্রিকেটারদের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ পয়েন্ট, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরির ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরির ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির পাঁচ লাখ পয়েন্ট। খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পয়েন্ট ব্যয়ের নির্দিষ্ট সীমা নেই, তবে দলগুলোকে নিজেদের মোট বরাদ্দের মধ্যে থাকতে হবে।
নিলামে কোনো ক্রিকেটারের জন্য যে পরিমাণ পয়েন্ট খরচ হবে, সেটিই তার পারিশ্রমিক নয়। বিসিবি ম্যাচের ধরন অনুযায়ী খেলোয়াড়দের ফি নির্ধারণ করেছে। চার দিনের ম্যাচে একজন ক্রিকেটার পাবেন দেড় লাখ টাকা, ওয়ানডেতে এক লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।
বিসিবির সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি সংস্করণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডি-থ্রি ট্রফি। উদ্বোধনী পর্বের ম্যাচগুলো হবে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম ও মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চার দিনের ম্যাচ এবং মে মাসে ওয়ানডে সংস্করণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করা হচ্ছে না। ফলে ডি-থ্রি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিপিএলের মতো শুধু টি-টোয়েন্টিভিত্তিক প্রতিযোগিতা নয় এটি। বরং তিন সংস্করণের ক্রিকেটকে একই কাঠামোয় আনার উদ্যোগ।
টুর্নামেন্টের আয় বাড়াতে দলগুলোর স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের ৫০ শতাংশ ভাগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ে কি না, সেটিও প্রতিযোগিতাটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
