সস্তা বাহবা ও ক্রেডিট নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রধান বা আইজিপির দেওয়া বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে স্বস্তির বদলে বিব্রত ও ভীত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেছেন, যুবদল বহু সংগ্রাম আন্দোলনের ভূমিকার মধ্যে দিয়ে বিএনপির একটি ইস্পাত কঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৪৮ বছর পার করে আজকে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী যুব সংগঠনে তারা পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রের সংগ্রাম, মানুষের অধিকারের সংগ্রাম এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ গণতন্ত্রের ভিত্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসার আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত হিসেবে জাতীয়তাবাদী যুবদল এবং এর অসংখ্য নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আত্মদান করেছেন। তারা সেই মহান আন্দোলনের অর্জনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসাসেবা (মেডিকেল ক্যাম্প) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং জিয়া উদ্যানে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পুলিশ বাহিনীর প্রধান একটি সরকারের পক্ষে সব কথা বলেন, তা সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে ভীত পাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করে। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে কাজে লাগান। নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করলে সমাজে কোনো অপরাধ থাকবে না। কিন্তু সস্তা ক্রেডিট বা বাহবা নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কথা বললে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকেও বিব্রত করবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে দক্ষ করে তুলে দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জাতির পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে বিশৃঙ্খল নয়, বরং মূল অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমানের 'মানবিক বাংলাদেশ' রূপকল্পের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অনাহারে বা নিরন্ন না থাকে। অর্থনীতিবিদদের গবেষণাতেও এসেছে যে, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমে আসবে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় কোটি কোটি গাছ ও তালগাছ লাগানোর মতো দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই অতীতে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে এসেছিল।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ এবং উৎপাদনমুখী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
