নদিয়ার হবিবপুর মাঠপাড়ায় বাড়িতেই ১৮ বছরের এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু। মৃতের নাম রবি পাল। তাঁর বাবা চন্দন পালের বিরুদ্ধে ছেলেকে মারধরের অভিযোগ তুলে সরব স্থানীয়রা। স্থানীয় প্রতিবেশীর দাবি, সোমবার ভোরে বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলাকালীন চন্দন পালকে ছেলের দিকে তেড়ে গিয়ে আঘাত করতে দেখেন। এরপর তাঁর বাবা সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে হইচই শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাবা চন্দন পালকে পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয় প্রতিবেশী শান্ত কুমার বিশ্বাসের দাবি, অন্যান্য দিনের মতো এদিন ভোরে ফুল তুলতে যাওয়ার সময় আনুমানিক ভোর পাঁচটা নাগাদ বাবা ও ছেলেকে কথা বলতে দেখেন তিনি। তাঁর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চন্দন পাল ছেলের দিকে তেড়ে গিয়ে আঘাত করেন। আঘাতটি ঘুষির মতো বলে মনে হয়েছিল তাঁর। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে পাড়ায় হইচই শুনতে পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে পাড়ার অন্য বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হয়েছেন। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে রবির দেহ উদ্ধার করে এবং তাঁর বাবা চন্দন পালকে সঙ্গে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবা ও ছেলের মধ্যে ঠিক কী বিষয় নিয়ে বচসা হয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রতিবেশীদের কথায়, রবি অত্যন্ত ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিলেন। পাড়ার লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। নেশা করার অভ্যাসও তাঁর ছিল না বলে দাবি ওই প্রতিবেশীর। অন্যদিকে, মৃত যুবকের মামা কৃষ্ণ পালের বক্তব্য, ঘটনার বিষয়ে তাঁরা যা শুনেছেন, তাতে বাবার সঙ্গে বচসার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন। রবির মোবাইল ফোন পরীক্ষা করলে এ বিষয়ে কোনও সূত্র পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা। মোবাইল ফোনটি পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাবার সঙ্গে বচসার পরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেশীর দাবি সামনে এলেও, তার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে, তবে ইতিমধ্যে সামগ্রিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
