গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে। মঙ্গলবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ইলেকশনস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ১৯৭৩ সালে পরিসংখ্যান রাখা শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কমিটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের একই সময়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি; সেবার এই সময়ে ভোটদানের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
কমিটির তথ্যমতে, প্রায় ৭৩ লাখ ভোটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
ভোটারদের উচ্চ হার নেসেট (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ছোট দলগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভোটদানের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য নির্বাচনী সীমা (ইলেক্টোরাল থ্রেশহোল্ড) অতিক্রম করতে না পারার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সীমা পার হওয়ার জন্য দলগুলোকে মোট ভোটের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়; আর সামগ্রিক ভোটদানের হার বাড়লে এই সীমা অতিক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যাও বেড়ে যায়।
সিএনএন জানিয়েছে, নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি। জনমত জরিপ পরিচালনাকারীরা ধারণা করছেন, আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বড় ধরনের বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কারো পক্ষেই পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিশ্চিত নয়।
এক্ষেত্রে আরব-প্রধান দুটি দলের—মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ‘রাম’ এবং ইউসেফ জাবারিনের নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ সমর্থন নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অবশ্য প্রধান দলগুলো সরাসরি কোনো জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
