রান্নার জগতে তাঁর পরিচিতি ছিল দেশজোড়া। টেলিভিশনের পর্দায় রান্নার নানা কৌশল আর হাসিখুশি স্বভাবের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। প্রয়াত জনপ্রিয় রন্ধনশিল্পী কে দামোদরন, যিনি ‘শেফ দামু’ নামেই পরিচিত। রবিবার, ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
রন্ধনশিল্পে নিজের দক্ষতার প্রমাণ একাধিকবার দিয়েছেন শেফ দামু। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে একক রান্নার ম্যারাথনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন তিনি। টানা ২৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ১২ সেকেন্ডে মোট ৬১৭টি পদ রান্না করেছিলেন তিনি। রান্না করা খাবারের মোট ওজন ছিল প্রায় ১৯০ কেজি। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মাদুরাইয়ে প্রায় ১৪.৭ মিটার দীর্ঘ ধোসা তৈরি করার মতো চ্যালেঞ্জও নিয়েছিলেন এই রন্ধনশিল্পী।
দক্ষিণ ভারতের রন্ধনশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলেন শেফ দামু। তবে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি তাঁকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে বিজয় টিভির জনপ্রিয় রান্নার রিয়্যালিটি শো ‘কুকু উইথ কোমালি’-তে বিচারক হিসেবে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। রান্নার প্রতিযোগিতার সঙ্গে হাসি-মজার মেলবন্ধনে তৈরি এই অনুষ্ঠানে তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার এবং রান্না সম্পর্কে মূল্যবান পরামর্শ দর্শকদের আকৃষ্ট করত। শুধু পেশাদার রাঁধুনি হিসেবেই নয়, তাঁর ব্যক্তিত্বের জন্যও অনুরাগীদের কাছে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।
রন্ধনশিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। প্রথম দিকে তামিলনাড়ু পর্যটন উন্নয়ন নিগমে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে রান্না, প্রশিক্ষণ এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করেন।
তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। টেলিভিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে রান্নার শিল্পকে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শেফ দামুর অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যু রন্ধনশিল্পের ক্ষেত্রে বড় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শোকবার্তা জানিয়েছেন জনপ্রিয় শেফ সঞ্জীব কাপুরও। সমাজমাধ্যমে শেফ দামুর সঙ্গে একটি ছবি ভাগ করে তিনি তাঁর হাসিখুশি স্বভাব এবং একসঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলির কথা স্মরণ করেন।
