দাদাভাই ক্লাবের গত বছরের চোখধাঁধানো মণ্ডপ। জলপাইগুড়িতেEi Samay
Published on
:
1 min read
এই সময়, জলপাইগুড়ি: সত্তরের দশকের শেষ দিক। তখন বাংলা অশান্ত। জলপাইগুড়ির চার নম্বর গুমটি, পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পরে বেরোতে ভয় পেতেন স্থানীয়রা। ভয়ের পরিবেশ কাটাতে যুবকদের এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হাবু মজুমদার, হরি চৌধুরী-সহ কয়েকজন। তাঁদের উদ্যোগেই ১৯৭৮-এ পথচলা শুরু দাদাভাই ক্লাবের। সে বছরই শুরু হয় কালীপুজো। এ বার ৪৯তম বছর।
প্রথমে কালুসাহেবের মাজারের উল্টো দিকে পাঁচ বছর পুজো হয়। পরে রতন চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে হয় আরও পাঁচ বছর। এরপর থিম পুজোর জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ১৯৮৯-এ পুরাতন মসজিদের পুকুরপাড়ে মণ্ডপ তৈরি করা হয়। স্বর্ণমন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে নজর কেড়েছিল দাদাভাই ক্লাব। সেখানে টানা ১৫ বছর পুজো হওয়ার পরে মণ্ডপ সরে যায় সতীশ লাহিড়ী স্কুলের মাঠে।
স্বর্ণমন্দিরের পর থেকেই থিম পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ক্লাব। কোনও বছর হোয়াইট হাউস, কোনও বার টাইটানিকের আদলে মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মন জয় করেছে। মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ারের আদলে তৈরি মণ্ডপ ভোলার নয়। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা বর্তমান সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ক্লাব তৈরির সময়ে আমাদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পাড়ার বড়দের ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন নীহাররঞ্জন সরকার, আশুতোষ পাল, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপাল ঘোষ, বিনয় দাস ও মিহিরকুমার দত্ত-সহ এলাকার যুবকেরা।'
এ বারের পুজোর থিম মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রবাহ। পুজো কমিটির যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ অপু গুহরায় জানান, মণ্ডপ তৈরি করছেন উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের নীহার দেবনাথ। প্রতিমা শিল্পী জলপাইগুড়ির বাপি পাল, আলোকসজ্জায় চন্দননগরের প্রশান্ত ভট্টাচার্য। বাজেট প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, 'এক বছরের পুজো শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই পরের বছরের থিম ঠিক করে নেওয়া হয়। এতে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সুবিধা হয়।'