কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’র ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজের ১০ দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মাধ্যমে মর্মান্তিক ওই রিসোর্ট ট্র্যাজেডিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছাল। গলার লকেট দেখে কঙ্কালটি তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার বলে শনাক্ত করেছেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।
এর আগে সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে পুড়ে নিহত ১০ জনের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়। তবে ওই ১০ জনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিললেও সেখানে নিখোঁজ শিক্ষিকা নাসরিন আক্তারের কোনো নিকটাত্মীয়ের নমুনা না মেলায় নতুন করে রহস্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতের ওই ডিএনএ প্রতিবেদনে একজন শিক্ষিকার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওই ধ্বংসস্তূপে পুনরায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার অভিযانের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ নারীর সন্ধানে পুলিশ রিসোর্টের সম্ভাব্য সব কোণ, আশপাশের নালা এবং ঝোপঝাড়েও নিবিড় তল্লাশি চালিয়েছে।
নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে এসে তিনি পাটুয়ারটেকের ওই রিসোর্টে ওঠেন। গত ১০ দিন আগে সংঘটিত ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে অন্য দুই বান্ধবী সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে বের হলেও মুক্তা রুমেই ঘুমাচ্ছিলেন। বান্ধবীরা বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হয় স্কুলশিক্ষিকা নাসরিনকে।
