ধনতেরস মানেই সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনার রীতি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নতুন কিছু কেনা শুভ বলে মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন, ধনতেরসে কেনাকাটা করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। কিন্তু সোনা বা রুপোর মতো দামি ধাতু কেনার সামর্থ্য সবার থাকে না। সে ক্ষেত্রে এমন একটি সস্তার জিনিসও ঘরে আনতে পারেন, যা নিয়ে প্রচলিত রয়েছে শুভ শক্তি ও সৌভাগ্যের ধারণা।
ধনতেরসের সঙ্গে দেবী লক্ষ্মী এবং ধন্বন্তরির পুজোর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে নিয়ম মেনে পুজো করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তবে উৎসবের আনন্দে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিজের সামর্থ্যের বাইরে খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সোনা-রুপো না কিনেও সামর্থ্য অনুযায়ী ছোটখাটো কিছু কিনে উৎসবে যোগ দিতে পারেন। সংসারের যে কোনও টুকিটাকি জিনিস কিনতে পারেন৷ বাসন বা ঠাকুরের আসনের কাপড় যা কিছু নতুন কেনাই শুভ৷
ধনতেরসে কী কিনবেন, তা নিয়ে প্রচলিত নানা রীতির মধ্যে রয়েছে ধাতুর জিনিস, বাসনপত্র এবং দৈনন্দিন কাজে লাগে এমন সামগ্রী কেনার প্রথা। অনেক পরিবারে এমন কিছু জিনিস কেনা হয়, যেগুলিকে শুভ বলে মনে করা হয়। সেগুলির মধ্যে কোনও কোনও জিনিসের দামও তুলনামূলক কম। অনেকে ধনতেরাসে ঝাঁটা কেনা শুভ মনে করেন৷
যেহেতু ধনতেরাসে ধনলক্ষ্মীর পুজো করা হয়, এবং লক্ষ্মীদেবী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ঘরদুয়ার পছন্দ করেন, তাই মনে করা হয়, এই দিন ঝাঁটা কিনে সন্ধেবেলা ঘর পরিস্কার করলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়৷
তবে মনে রাখা দরকার, কোনও নির্দিষ্ট বস্তু ঘরে আনলেই যে নিশ্চিত ভাবে সৌভাগ্য আসবে বা আর্থিক উন্নতি হবে, তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই ধনতেরসের কেনাকাটা করুন নিজের প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে। উৎসবের আসল আনন্দ দামি জিনিস কেনার মধ্যে নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন শুরুর প্রত্যাশায়
