২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে গ্রামীণফোন। পূর্ববর্তী প্রান্তিকেই ক্রমান্বয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গ্রাহক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, ধারাবাহিকভাবে ডেটা ব্যবহারকারীর হার বৃদ্ধি এবং ডেটার স্থিতিশীল চাহিদার ওপর ভর করে কোম্পানির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
তৃতীয় প্রান্তিক শেষে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ গ্রাহকভিত্তির তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৩০ লাখ ব্যবহারকারী ইন্টারনেট-সেবা গ্রহণ করছেন।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে আমাদের পারফরম্যান্স তারই প্রতিফলন। প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসা, সুরক্ষিত মুনাফা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা। তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশের রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছি।
তিনি বলেন, আমরা খরচের ক্ষেত্রে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি বজায় রাখা এবং পরিচালন দক্ষতায় মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নেটওয়ার্কের গুণগত মান এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি; যার ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৯ শতাংশ মার্জিনসহ মোটা দাগে একটি স্থিতিশীল ইবিআইটিডিএ অর্জিত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্যাপেক্স-টু-সেলস অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে মূলত ফোরজি নেটওয়ার্ক ও ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণ এবং ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে আমরা কিছুটা রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছি। আগের প্রান্তিকগুলোতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর এই প্রান্তিকে রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গ্রাহকের সংখ্যা এবং সেবা ব্যবহারে আমরা যে ইতিবাচক ধারা দেখেছি, তা এখন রাজস্বে রূপান্তরিত হচ্ছে। বড় গ্রাহক ভিত্তি, শক্তিশালী ডিজিটাল ও ডেটা পারফরম্যান্স এবং মিনিট ব্যবহারে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে আমাদের লক্ষ্য হলো এই গতি কাজে লাগানো এবং আরও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। আমাদের গ্রাহক ভিত্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি এখন ৮ কোটি ৭০ লাখের কাছাকাছি।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহক ঝরে যাওয়ার প্রবণতা কম থাকা এবং নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যে শক্তিশালী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল তা বজায় রেখে এই প্রান্তিকে ডেটা ব্যবহার প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় ১ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকায় স্থিতিশীল ছিল এবং বছরজুড়ে মোট ব্যয় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আমাদের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। সুষ্ঠু ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা মুনাফা নিশ্চিত করতে পেরেছি, যার ফলে টানা কয়েক প্রান্তিকের নেতিবাচক পরিস্থিতির পর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিট মুনাফা ৭৫১ কোটি টাকায় স্থিতিশীল হয়েছে। বৈশ্বিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং জ¦ালানি সংকটের কারণে আমরা জানি যে চতুর্থ প্রান্তিকে আমাদের ব্যয়ের দিকে কঠোর নজর রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সুশৃঙ্খল মূলধন বণ্টন ও বিনিয়োগ এখন অবচয় কমাতে ভূমিকা রাখছে। রিটার্ন অন ক্যাপিটাল এমপ্লয়েড (আরওসিই) এক বছর আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই সূচকগুলো আমাদের শক্তিশালী পরিচালন দক্ষতা এবং মূলধন ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।