কালবেলা · রাজনীতি
গাইবান্ধায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে ২ পক্ষের সংঘর্ষ
২৭/১০/২০২৬

মাইকে ঘোষণা দিয়ে গাইবান্ধায় বিএনপির ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সদর উপজেলার ১১ নম্বর গিদারী ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এতে ইউনিয়ন বিএনপির ৪-৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে সদর উপজেলার ১১ নম্বর গিদারী ইউনিয়নের স্বাধীন, রশিদ লাকুসহ আরও কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এরশাদ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে সদর উপজেলার ১১ নম্বর গিদারী ইউনিয়নের এক মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠে। পরে মেয়ের পক্ষে স্থানীয় পুটু নামের এক যুবকের সঙ্গে ১১ নম্বর গিদারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ মিমাংসার জন্য বসার কথা বলেন। সেখানে পুটু নামের ওই যুবক গেলে মারধর করে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ ও তার লোকজন।
ধর্ষণের বিচার ও পুটু-এর ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিএনপির কিছু সমর্থক, এলাকাবাসী ও ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়ের স্বজনরা মানববন্ধন করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এরপর এলাকাবাসি ও কিছু বিএনপির সমর্থক মানবন্ধনের মাইককে ঘোষণা দিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৪-৫ জন আহত হয়। এ সময় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ১১ নম্বর গিদারি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদসহ তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী হামলার শিকার হওয়া স্থানীয় যুবক পুটু বলেন, ‘বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি মাসুদ ধর্ষণের মীমাংসা করার কথা বলে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। সোমবার সকালে আমার ওপর হামলা ও ধর্ষণের বিচারের জন্য মানবন্ধনের করার চেষ্টা করলে তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে এলাকাবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। আমরা বিএনপি অফিস ভাঙচুর করিনি। ওরা নিজেরা নিজেরাই ভাঙচুর করে।’
খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই সাথে বিএনপি অফিস ভাঙচুর করায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗