ডিজিটাল সেবার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশেই এসব ফোন উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের কথা জানান সচিব। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে এবং চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের অংশীদারত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো, সংযোগব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৯৯৯ টাকায় সাধারণ মুঠোফোন পাওয়া গেলেও স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ কারণে অনেক মানুষ ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যবধান কমাতে সরকার স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক নীতিমালা চূড়ান্ত করার কথাও জানান তিনি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছিলেন, সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের স্থানীয় উৎপাদন শুরু এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্মার্টফোন ব্যবহারের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। উৎপাদন ব্যয় কমাতে স্থানীয় নির্মাতা, মুঠোফোন অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ব্রডব্যান্ড এবং টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। শুধু সংযোগ স্থাপন করলেই হবে না, শিল্প, ব্যবসা ও নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল পেতে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য সংরক্ষণের অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও গবেষণা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল সক্ষমতায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও সাশ্রয়ী যন্ত্র, উপযোগী তথ্যসেবা ও দক্ষতার অভাবে অনেকে এর সুফল পাচ্ছেন না। তার মতে, সংযোগ অর্থপূর্ণ করতে হবে, নেটওয়ার্ককে নির্ভরযোগ্য করতে হবে এবং বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনা করে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও বেশি টাওয়ারকে অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আনা, ব্যস্ত সময়ে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা সচল করার প্রস্তুতি প্রয়োজন। প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চায় তাদের প্রতিষ্ঠান। সংযোগব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
