সুন্দরবনে তেলবাহী একটি জাহাজের ধাক্কায় ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের পশুর চ্যানেলসংলগ্ন হারবাড়িয়া এলাকার সুন্দরীর কোঠায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হননি। জাহাজে থাকা নাবিক ও শ্রমিকসহ ৯ জন এবং তেলবাহী জাহাজের এক কর্মীকে উদ্ধার করে মোংলায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে জাহাজটি মূল বন্দর চ্যানেলের বাইরে ডুবে যাওয়ায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ইয়াস জুপিটার’ থেকে কয়লা বোঝাই করে ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথে পশুর চ্যানেলের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় ‘এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়। এতে কার্গো জাহাজটির তলা ফেটে যায় এবং ভেতরে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ
এমভি ফুলবাড়ীর সুকানি মো. সাকিব কাজী বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হিরণ পয়েন্ট থেকে কয়লা বোঝাই করে তাঁরা মোংলার দিকে আসছিলেন। এ সময় জান্নাতুল ফেরদৌস নামের তেলবাহী জাহাজটি বিপরীত দিক থেকে আসছিল। একপর্যায়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের জাহাজে ধাক্কা দেয়। এতে জাহাজের ডেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
সাকিব কাজী বলেন, ‘আমরা জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এর মধ্যেই এটি ডুবতে শুরু করে। আমরা সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে লাফ দিয়ে সাঁতরে অন্য একটি জাহাজে উঠি।’
অন্যদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর মো. নয়ন শেখ বলেন, নোঙরের সমস্যার কারণে তাঁদের জাহাজটি সরে মূল চ্যানেলে চলে আসে। সামনে এসে আলো জ্বালিয়ে সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি। ধাক্কায় তিনি ছিটকে ফুলবাড়ী জাহাজে গিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।
১০ জনকে উদ্ধার করে মোংলায় আনা হয়েছে
দুর্ঘটনার পর ‘রানীয়া-১৩’ নামের একটি জাহাজ এমভি ফুলবাড়ীর নাবিক ও শ্রমিকসহ ৯ জন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর নয়ন শেখকে উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তাঁরা বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার কার্যালয়ে রয়েছেন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে কয়লা বোঝাই করে জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে থাকায় অন্য নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না।
দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবে গেছে। তাই বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রয়েছে এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক আছে। ডুবে যাওয়া জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
