দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে মৃত্যুর হিসাবে এটি সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪০০ জন। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৫৫ জন। ফলে চলতি মাসে রোগটির কারণে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে মারা যান ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জন। জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে রোগী প্রাণ হারান। এসব পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষা মৌসুমের পরও দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেনি; বরং সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২ হাজার ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৯৯ জন। এ ছাড়া খুলনায় ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, বরিশালে ২১৭ জন, রংপুরে ১১২ জন এবং ময়মনসিংহে ৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার বংশবিস্তার রোধ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা প্রয়োজন, কারণ এসব স্থানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
