ছবি সংগৃহীত
দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি শেষে দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে ছুটির পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে পতন হলো।
টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে।
ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই শেষ হয় দিনের লেনদেন। এদিন লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১০৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
বিপরীতে ২২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৫৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বিপরীতে ১১৪টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৮টির দাম কমেছে এবং আটটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তিনটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৯টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিং।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯২টির দাম কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৯ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
