কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারী ও কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্টের বাজারে নতুন অ্যাপ ‘ক্লদ ডুয়েট’ চালু করেছে অ্যানথ্রপিক। পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ করা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করাই অ্যাপটির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মেটার মিউজ, ওপেনএআইয়ের ডটসসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই এজেন্টগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে এআই সহকারীর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এজেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রচলিত চ্যাটবট মূলত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হলেও এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই পরিবর্তন সামনে রেখেই ক্লদ ডুয়েট তৈরি করেছে অ্যানথ্রপিক।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্লদ ডুয়েট পেশাগত কাজ ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষভাবে উপযোগী। এটি ব্যবহারকারীর জন্য প্রতিদিনের কাজের সারসংক্ষেপ তৈরি, ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দিতে পারে। পাশাপাশি চলমান কাজ পর্যবেক্ষণ করে নিজে থেকেই সুপারিশ দেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে অ্যাপটির।
অন্য এআই এজেন্টের মতো ক্লদ ডুয়েটও ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারী অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও এটি নিজস্ব ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে নির্ধারিত কাজ এগিয়ে নিতে পারে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য অনুমতি প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর কাছে ফিরে আসবে।
তবে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, দৈনন্দিন ব্যক্তিগত কাজ, যেমন টিকিট বুকিং বা বিভিন্ন কাজের জন্য বাইরে ছোটাছুটির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে ক্লদ ডুয়েট বিশেষভাবে তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া এটি ব্রাউজারে কীভাবে কাজ করছে, তা ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি দেখতে পারবেন না।
ক্লদ ডুয়েট তৈরি করা হয়েছে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ ওপাস ৫.৫’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে। এটি ক্লদ মার্কেটপ্লেসের ছয় হাজারের বেশি কানেক্টর ও প্লাগ-ইনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও পেশাগত টুল ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পক্ষে অনলাইন কেনাকাটা করাও সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্ট্রাইপের লিংক ডিজিটাল ওয়ালেট অথবা শপিফাইয়ের শপ পে ব্যবহার করা যাবে। তবে অর্থ পরিশোধের মতো সংবেদনশীল কাজ সম্পন্ন করার আগে ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে সিকিউরিটিজ কেনাবেচা কিংবা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের কাজ করবে না অ্যাপটি। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংবেদনশীল তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে পড়া ঠেকাতে প্রতিটি বার্তা যাচাইয়ের জন্য নতুন একটি ক্লাসিফায়ার তৈরি করা হয়েছে। ডিফল্ট সেটিংসে ক্রেডিট কার্ড নম্বর ও সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য চাওয়া হয়Ñ এমন অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করবে এজেন্টটি।
এদিকে, ব্যাবসায়িক কাজে এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়াতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা জোরালো হচ্ছে। মেটার মিউজ ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্যও আলাদা সংস্করণ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের ডটসেও পেশাগত বিভিন্ন টুলের সঙ্গে সংযুক্তির সুবিধা রয়েছে।
ক্লদ ডুয়েট বর্তমানে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের পাশাপাশি ঈষধঁফব.ধর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। তবে গবেষণামূলক পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসেবে এটি আপাতত প্রো ও ম্যাক্স গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহার করতে আগ্রহীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম নিবন্ধন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির পরবর্তী প্রতিযোগিতা শুধু কে ভালো উত্তর দিতে পারে, তা নিয়ে নয়; বরং কোন এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বাস্তব কাজ সম্পন্ন করতে পারে, সেটিই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্লদ ডুয়েটের মাধ্যমে অ্যানথ্রপিক সেই বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
