ছেলে হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফকে নিয়ে আক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেছেন, যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হয়েছে, পর হইলাম আমি। ছেলেকে কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করলেও এখন তিনি তার খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ করেছেন হেদায়েতুল্লাহ। অসুস্থতার সময় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তার বাবা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই তাশরীফ মাইক্রোফোনে বক্তব্য দেন এবং ন্যায়পরায়ণতা ও জ্ঞান নিয়ে অন্যদের উপদেশ দেন। অথচ অসুস্থ বাবার ভরণ-পোষণ করেন না, এমনকি খোঁজখবরও নেন না।
মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ বলেন, পড়াইয়া তারে আজকে মাওলানা বানাইছি, হাফেজ বানাইছি। সে অস্বীকার যায়, আমি বলে তারে পড়াইছি না। এরপরে তার আরেকটা কথা, সে ছোট সময় তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছিল। পরে মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা, টাকা চাইয়া চাইয়া; আমি তো টাকা অল্প টাকা পাই, ইমামতি করি, তো টাকাটা চলে না। পরে মাইনষের কাছ থেকে চাইয়া চাইয়া, অনেক কষ্ট কইরা, তারে অনেক দিন পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, মির্জাপুর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা অনেক কষ্ট কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে, ভালো হইছে।
নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হেদায়েতুল্লাহ বলেন, আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, তারে কইছি, আমারে কিছু টাকা দে। পরে কিছু টাকা না দিয়া কয়, আমি জমি কিনমু। আমি টাকা দিতে পারতাম না, কষ্ট করে তোরে লেখাপড়া করলাম, লালনপালন করলাম, তুই টাকা দিতে পারতি না?
পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা জানান তাশরীফের বাবা। তিনি বলেন, পরে আমি আমার এক মিডিয়ার মাধ্যমে একজন আমারে কইছে, মানুষের দ্বারস্থ হন, বেশি টাকা-পয়সা দেব। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে দ্বারস্থ হইছি। কিছু টাকা-পয়সা দিছেও। দেওয়ার পরে আমি চিকিৎসা করছি। কিন্তু চিকিৎসা করার পরেও আমার পুরাপুরি এটা ভালো হইছে না। আমি এহনো চিকিৎসাধীন আছি, চিকিৎসা করব।
ছেলের কাছ থেকে অবহেলা পাওয়ার অভিযোগ তুলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হইছে, পর হইলাম আমি। সে আজকে আমার খোঁজখবর লয় না, আমারে সে দেহে না, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না। আমি কষ্টের ভিতরে আছি।
তাশরীফের আর্থিক অবস্থা ও বন্ধুদের কথা উল্লেখ করে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তার অজস্র টাকা আছে, তার বন্ধুর অভাব নাই। আগে কি তার বন্ধু ছিল? আমি তারে কষ্ট করে পড়াইলাম, তারে কষ্ট করে পাললাম। সে আমারে তো কোনো দিন কিছু করে না।
মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায়ও আলোচনায় তাশরীফ
এর আগে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় তাশরীফের বক্তব্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।
ওই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেছিলেন, উনি চুমু দেন নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। তিনি আরও বলেন, যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে।
একই সঙ্গে কোনো একজন শিক্ষকের অপরাধের জন্য পুরো মাদ্রাসাকে দায়ী করা কিংবা সেখানে ভাঙচুরের বিরোধিতা করেন তিনি।
পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসা চুমু ও থাপ্পরকাণ্ডে ঘটনায় দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি সেখানে বলেন, আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। দোষ প্রমাণ হলে, ঘটনায় জড়িত ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হোক।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে নতুন করে ভিডিও বার্তা দেন তিনি।